ছবি : শাহীন আহমদ ও জুনেদ আহমদ চৌধুরী
বিকাল ৩টা। দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুল থেকে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজারে আসবেন এক বেসরকারি চাকরিজীবী। পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি থাকায় রাস্তায় বেরিয়ে বিপাকে পড়েন মান্না মিয়া নামের ওই চাকরিজীবী। বাধ্য হয়ে চন্ডিপুলে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল রাইডারের সঙ্গে জিন্দাবাজার আসার জন্য আলাপ করলে কেউই ২০০ টাকার কম জিন্দাবাজার আসতে রাজি হননি। পরে অনেক দর কষাকষির পর ১৫০ টাকায় একজন রাইডার মান্নাকে জিন্দাবাজার নিয়ে আসেন।
মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দিনভর সিলেটজুড়ে ছিলো এমনই চিত্র। পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিকে পুঁজি করে এভাবেই যাত্রীদের ‘পকেট কাটছেন’ বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল রাইডাররা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ- রাইডাররা এখন আর অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রী বহন করেন না। চুক্তি করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান। ভাড়া হাঁকেন স্বাভাবিকের চাইতে কয়েকগুণ বেশি। এ অবস্থায় রাস্তায় লোকজন জিম্মি হয়ে রাইডারদের হাঁকানো ভাড়াতেই গন্তব্যে পৌঁছেন।
অপরদিকে, পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতিকে পুঁজি করে সিলেটে রাস্তায় বেরনো লোকজনকে জিম্মি করছেন রিকশা চালকরাও। ১০ টাকার ভাড়ার জায়গায় তারা হাঁকছেন ৬০-৭০ টাকা। আর ২০ টাকার ভাড়ায় ১০০ টাকাও আদায় করছেন তারা যাত্রীদের কাছ থেকে।
অভিযোগ রয়েছে- এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না হয়রানির শিকার যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, ‘পুলিশি হয়রানি’ বন্ধসহ ৫ দফা দাবিতে মঙ্গলবার ভোর থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা। বুধবার থেকে সিলেট বিভাগের চার জেলাতেই এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। ‘সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ’র ডাকে চলছে এই কর্মবিরতি।
পরিবহন কর্মবিরতির কারণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে সিলেট। সিলেট থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। চলছে না কোনো গণপরিবহন- এমনকি সিএনজি অটোরিকশা। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল (বুধবার) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের আহ্বানে তাঁর কার্যালয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা। তবে কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেই বৈঠক করবেন তারা। বৈঠকে বসে তারা তাদের দাবিগুলো আবারও প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করবেন। যদি প্রশাসন দাবিগুলো তাৎক্ষণিক মেনে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণের আশ্বাস দেয় তবে বৈঠক শেষে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে- এমনটি জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




