সিলেট ও মৌলভীবাজারে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে খালি মাঠে গোল দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে ভোটের মাঠে খেলা হবে। এ দুই জেলায় একাধিক প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩ টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। এসময় স্ব স্ব জেলার প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের চেয়ারম্যান পদে ২ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪২ জনসহ মোট ৫৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
চেয়ারম্যান পদে বর্তমান প্রশাসক ও সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী নুরুল হুদা মুকুট ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সুনামগঞ্জ জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন। তারা দুজনেই সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। রুমেন গেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের অগ্রজ।
বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মুকুট। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ী জিয়াউল হক, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান রায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি তহুর আলী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল বরকত, নুরুল হক, আব্দুল হাই,আব্দুর রশিদ, আব্দুল ওয়াদুদ, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আহমদ নূর প্রমুখ।
এদিন দুপুর ১ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রুমেনও রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট নান্টু রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, অর্থ সম্পাদক ইশতিয়াক শামীম, সুবীর তালুকদার বাপ্টু, ফজলুল করিম, মোবারক হোসেন, আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রোকেশ লেইছ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল তুহিন, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান তানভীর আশরাফী বাবু, অ্যাডভোকেট নানু মিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক নুরে আলম উজ্জ্বল, ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমেদ মুরাদ, জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসান, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আকমল খান প্রমুখ।
এ দুইজনের মধ্যে ভোটের লড়াইয়ে আভাস পাওয়া গেছে। যদিও গেল নির্বাচনে পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মান্নান ছাড়া জেলার সকল এমপি ছিলেন বিদ্রোহী প্রার্থী মুকুটের পক্ষে। এবারের নির্বাচনে জেলার সব সাংসদ শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন। ফলে গেলবারের চেয়ে এবার অনেকটাই পিছিয়ে আছেন মুকুট। এ ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন রুমেন।
মুকুটের বিরুদ্ধে গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিষদের ১০ সদস্য স্বেচ্ছাচারিতা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী সদস্যদের সম্মানি ভাতা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে- হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ৯টি সাধারণ সদস্য পদে ৩১ জন ও ৩টি সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৭ নং ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে আলাউর রহমান শাহেদ নামে একজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই ওয়ার্ডে আর কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রশাসক আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন আহমেদ, অ্যাডভোকেট শিবলী খায়ের ও অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম।
এ জেলায় চেয়ারম্যান পদে ভোটের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী- আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপিল ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ২৬ সেপ্টেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মুন্না




