আজ সোমবার (১৭ অক্টোবর) সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে ১৩ নং ওয়ার্ড (জকিগঞ্জ) সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ (বৈদ্যুতিক পাখা), যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবলীগ নেতা ও ইফজাল চৌধুরী এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ইফজাল আহমদ চৌধুরী (টিউবওয়েল), উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান (তালা)। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক আমেজ তৈরি হয়েছে পুরো উপজেলা জুড়ে। জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, জকিগঞ্জ পৌরসভাসহ আট ইউপি নিয়ে গঠিত ১৩ নং ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছেন ১২০ জন।


নির্বাচনে সদস্য পদে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটাররা বলছেন- হাড্ডাহাড্ডি ভোটযুদ্ধে লড়ছেন সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমদ চৌধুরী। তাঁরা দুজনই সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আহমদ আল কবির বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চেয়ারের লড়াই কেউ কাউকেই দেননি ছাড়। চেয়ার ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শামিম আহমদ। ঠিক তেমনি জেলা পরিষদের চেয়ারে বসতে কোমর বেঁধে মাঠে কাজ করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী যুবলীগ নেতা ইফজাল আহমদ চৌধুরী। 

একাধিক ভোটারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শামিম আহমদ দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চেয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করার অঙ্গীকারও দিয়েছেন। তাঁর প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

প্রথমদিকে তিনি ভোটের মাঠে বেশ এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি ইফজাল চৌধুরী শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। কৌশলের ক্ষেত্রে একই পথে হাটেন শামিম আহমদ এবং ইফজাল চৌধুরী। প্রচার প্রচারণায় দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সম্পৃক্ত করেন দুজনই। দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে দিনরাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। 

নির্বাচনে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান। সহজ সরল প্রকৃতির এই সদস্য প্রার্থীকে নিয়েও আলোচনার শেষ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে সবচেয়ে সরব ছিলেন তিনি। ভোটারের কাছে গিয়েও চেয়েছেন ভোট। তাঁকে ঘিরে নির্বাচনে ব্যাপক কৌতূহল ছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত অভিমানে তিনি অনেকটা নিরবতা পালন করছেন।

এ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও উত্তাপ ছড়ায়। হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর দিকে নজর সকল মানুষের। 

জানা গেছে, আজ জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সকাল ৯টা থেকে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর দুইটায় শেষ হবে। নির্বাচন অবাদ সুষ্টুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচনে ভোটারের ভোটাধিকারের মধ্যেদিয়ে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শামিম আহমদকে হারিয়ে চেয়ারে বসার স্বপ্ন দেখছেন ইফজাল চৌধুরী। কিন্তু ইফজাল চৌধুরীর সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে বিজয়ের হাসি হেসে আবারো চেয়ারে বসবেন বলে আশাবাদী জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১৩নং ওয়ার্ড (জকিগঞ্জ উপজেলা) থেকে এককভাবে নির্বাচন অংশ নিয়েছেন জেলা পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নারীনেত্রী সাজনা সুলতানা হক চৌধুরী। একই সংরক্ষিত আসনের অন্তর্ভুক্ত ১২নং ওয়ার্ড (কানাইঘাট উপজেলা) থেকে এককভাবে অংশ নিয়েছেন মনিজা বেগম নামের অপর এক প্রার্থী। তবে শেষ পর্যন্ত সাজনা সুলতানা অনেকটা আলোচনায় চলে এসেছেন।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা হয় প্রার্থীদের সঙ্গে। এ সময় সদস্য  প্রার্থী ইফজাল আহমদ চৌধুরী বলেন, জকিগঞ্জের জনপ্রতিনিধিগণ পরিবর্তনের পক্ষে। তাই তাঁর বিজয় শতভাগ নিশ্চিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রসারে কাজ করছেন। নির্বাচিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন করবেন এটাই তার অঙ্গীকার। অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে জানান।

সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমদ বলেন, অতীতে গণমানুষের সুখে-দুঃখে আমি পাশে ছিলাম। দলমত ছাড়াই মানুষ সকল সময় আমাকে কাছে পেয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। 

অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, অনেক ভোটারগণ অঙ্গীকার করেছেন আমাকে ভোট দেবেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা অঙ্গীকার ঠিক রাখলে আমি বিজয়ী হবো। 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / হাছিব / ডালিম