গত ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন সুনামগঞ্জের কৃতিসন্তান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তবে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁর। তাই কে হবেন নির্বাচনকালীন আইজিপি- এ নিয়ে রাজনীতির ময়দান থেকে পুলিশ প্রশাসনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

এ বিষয়ে যে ৩ পুলিশ কর্মকর্ত আলোচনায় আছেন তাদের একজন হচ্ছেন সিলেট রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি ও মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সাবেক কমিশনার।


সব ঠিক থাকলে ১৪ মাস পর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজপথে বিএনপিসহ বিরোধীদের তৎপর হয়ে ওঠা, আর আওয়ামী লীগের পাল্টা বক্তব্যে গরম হয়ে উঠছে নির্বাচনের মাঠ। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের চাকরির মেয়াদ রয়েছে। বয়সজনিত কারণে আগামী নির্বাচনের আগেই তাকে বিদায় নিতে হবে। পরবর্তী আইজিপিই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে পুলিশের এ সর্বোচ্চ পদ।

রাজনীতিসচেতনতরা বলছেন- নির্বাচনকালীন আইজিপি যিনি হবেন তাকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে, আইন মেনে কাজ করতে হয়। পাশাপাশি তার বাহিনীতেও গ্রহণযোগ্যতা ও লিডারশিপ থাকতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত ফোর্সের কাছ থেকে সে কাজ আদায় করে নেওয়ার মতো দক্ষতা থাকতে হবে। বাহিনীর সদস্যরা যেন আস্থায় নিতে পারেন, এমন চৌকস এবং দক্ষ কর্মকর্তা না হলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখা কষ্টকর।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র বলছে- আরও অন্তত চার মাস দায়িত্বে থাকছেন বর্তমান আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। ফলে এখনই পরবর্তী আইজিপি কে হচ্ছেন তা নিয়ে দাপ্তরিক তৎপরতা নেই। তবে আলোচনায় রয়েছেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের দুই ব্যাচের তিন কর্মকর্তা। খবর দৈনিক কালবেলা’র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে- পরবর্তী আইজিপি হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন পুলিশ ক্যাডারের ১২ ব্যাচের কর্মকর্তা এস এম রুহুল আমিন, মো. কামরুল আহসান এবং ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম।

অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিন তার ব্যাচে প্রথম স্থান অধিকারী। বর্তমানে এই কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) চিফের দায়িত্বে রয়েছেন।

কামরুল আহসান পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) পদে রয়েছেন। কামরুল আহসানের জন্ম চাঁদপুরের মতলবে। পুলিশের এ কর্মকর্তা এটিইউর চিফ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

আর ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণত অতিরিক্ত আইজিপিদের মধ্য থেকে একজনকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত পুলিশের ওই তিন কর্মকর্তা নির্বাচনকালীন আইজিপি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। অবশ্য বর্তমান আইজিপিকে মেয়াদ বাড়িয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়েও রয়েছে গুঞ্জন। তবে এখন পর্যন্ত দেশে এই পদে চুক্তিভিত্তিক কোনো নিয়োগ হয়নি।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম