বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে কার্যত অবরুদ্ধ দেশের বিভাগীয় শহর খুলনা। একদিকে সড়ক পরিবহন ও লঞ্চ ধর্মঘট, অন্যদিকে পথে পথে চেকপোস্টসহ নানা প্রতিবন্ধকতা। এর মধ্যেই নানা কৌশলে খুলনায় অবস্থান নিয়েছেন আশপাশের জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা।
বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে বিভাগের আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে খুলনা। এতে সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে গণসমাবেশে যাত্রার পথে পুলিশি হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী।
পথে পথে বাধা-বিপত্তি ও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ বিভাগের দশটি জেলার ৬০ ভাগ নেতাকর্মী প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহনে এমনকি হেঁটে দুদিন আগেই রওনা দেন।
অনেক নেতাকর্মী বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে ট্রেনে খুলনায় পৌঁছেছেন। কেউ উঠেছেন আত্মীয়স্বজনের বাসায়, কেউ মেস ও হোটেলে। তারা আগেই আশঙ্কা করেছিলেন, সমাবেশে যেতে প্রতিবন্ধকতা হবে। সেজন্য আগেভাগে রওনা দিয়ে যার যার সুবিধামতো জায়গায় উঠেছেন।
এদিকে ঢাকা থেকেও ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা বৃহস্পতি ও শুক্রবারই খুলনায় পৌঁছান।
গত বুধবার সকালে খুলনা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্র, ইজিবাইক ও বিআরটিসির গাড়ি চলাচল করছে। ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রশাসন যদি সড়কে ওই অবৈধ যান চলাচল ও কাউন্টার বন্ধ না করে, তাহলে পরবর্তী দুই দিন ২১ ও ২২ অক্টোবর মালিক সমিতির সব রুটের গাড়ি বন্ধ থাকবে। খুলনা জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।’
বিএনপির নেতারা দাবি করেছেন, সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বিভাগের সব জেলার রাস্তা মিলিত হবে খুলনার সোনালী ব্যাংক চত্বরে, কয়েক লাখ মানুষ জমায়েতের মধ্য দিয়ে ওই অঞ্চলে স্মরণকালের বড় জমায়েত করা হবে।
এবিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাধা আসবে যেখানে লড়াই হবে সেখানে। জনগণের বাঁধ ভেঙে গেছে। বিএনপির সমাবেশ বন্ধ করার জন্য শুধু ধর্মঘট নয়, কারফিউতেও কাজ হবে না। কারণ, বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখেই রাজপথে নেমেছে। এই জালিমশাহী সরকারের পতন ঘটিয়েই ঘরে ফিরবে ইনশাআল্লাহ।’
শুক্রবার খুলনার কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত খুলনাসহ বিভাগের কয়েকটি জেলা থেকে বিএনপির শতাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা থেকে আটক করা হয়েছে অর্ধশত নেতাকে। এ ছাড়া মাগুরা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মোরেলগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত খুলনার সমাবেশকে কেন্দ্র করে আরও প্রায় ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশ বাড়ি বাড়ি সাদা পোশাকে হানা দিয়ে হয়রানি করছে। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও বাড়ি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে সমাবেশে যেতে বাধা দিচ্ছে।’
জ্বালানি তেল ও চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলায় নূরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন, মুন্সীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আব্দুল আলিম হত্যা, সারা দেশে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভাগীয় গণসমাবেশ করছে বিএনপি। গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম এবং ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ শনিবার খুলনার পর ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গণসমাবেশ হবে। সবশেষে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইআ-০৮




