টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশর তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ব্রিসবেনে কি এক দুর্দান্ত লড়াই-ই না উপভোগ করলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা!

 


সে ম্যাচে শেষ বল পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনা। জয়ের সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশ- জিম্বাবুয় দুই দলেরই।এমনই এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ দল। জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে আগামীকাল (বুধবার) আ্যডিলেডে ওভাল মাঠে বাংলাদেশ খেলবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় বিকাল ২ টায়।

 

অ্যাডিলেড ওভাল, বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঐতিহাসিক এক জয়ের ভেন্যু। ২০১৫ সালে এখানেই ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ছিল বাংলাদেশ দল। ওই হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়া ইংলিশদের ক্রিকেটেও বাঁক-বদল হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসান বলেন , ‘জয়ী সেই টিমের থেকে বোধহয় আমি আর তাসকিন আছি। অবশ্যই ভালো স্মৃতি। ভালো মেমোরিজ গুলো সবসময় অনুপ্রেরণা যোগায়। আশা করি সেই স্মৃতি মানসিকভাবেও একটু সাহায্য করবে।’

 

ভারতও আছে চাপে। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে কিছুটা কোণঠাসা বিরাট কোহলিরা। এ অবস্থায় তাদের সামাল দেওয়াটা সহজ হবে না বলেই মনে করেন সাকিব।

বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমি বিশ্বকাপের আগের প্রেস কনফারেন্সেও বলেছি প্রতিটা ম্যাচই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটা ম্যাচেই আমরা একই এপ্রোচ নিয়ে খেলতে চাই। কোন দেশের সাথে কোন অবস্থায় খেলা হচ্ছে এগুলো আমরা চিন্তা করতে চাই না। আমরা সেটা উপভোগ করতে চাই। আমাদের একই পরিকল্পনা একই।’

 

নেদারল্যান্ডস ও জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে এই দুটো জয় নিশ্চিত করেই আত্মবিশ্বাসী করেছে বাংলাদেশ দলকে। তবে সাকিব মনে করেন না এখনই দল সব শিখে গেছে, ‘ম্যাচ জিতলে তো অবশ্যই ভালো লাগে, আর আলাদা করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হয় যে লাস্ট ওভার কিংবা সেকেন্ড লাস্ট ওভারে ম্যাচ ডিসাইড যায়।  টি-টোয়েন্টি খেলা যেহেতু অল্প সময়ের খেলা প্রতিযোগিতা বেশি থাকে। এখানে ক্লোজ ম্যাচগুলোই বেশি হবে। এই নার্ভগুলো ধরে রাখতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে যেটা হচ্ছিল যে আমরা ক্লোজ ম্যাচগুলো হেরে যাচ্ছিলাম। সেখান থেকে আমরা এখন ঘুরে দাঁড়ানো শিখছি, আমি বলবো না যে শিখে গিয়েছি। একটু তো উন্নতি আছেই যেখানে আমরা, আগে যে ক্লোজ ম্যাচ গুলোতে গেলেই হেরে যেতাম, ওখানে জেতা শুরু হয়েছে।

 

একাদশ প্রসঙ্গ বললেন, ‘দেখুন, একাদশ নিয়ে আসলে চিন্তা করা হয়নি, কিন্তু কম্বিনেশন তো চাইলেই অনেক রকম বানানো যায়। এমন না যে একটা কম্বিনেশন নিয়েই আছে কিংবা থাকবে। আর কম্বিনেশন আসলে অনেক রকম বানানো যায়। তারপরেও আমাদের যে রিসোর্স আছে, তা দিয়ে কিভাবে বেস্ট ইউজ করতে পারি সেটা আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

 

বাংলাদেশ-ভারত টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ের  ম্যাচ হয়েছে ১১টি। আর বাংলাদেশ মাত্র ১টি জয়। দশটিতে জিতেছে ভারত।

সাত বছর আগের সুখস্মৃতির অ্যাডিলেডে আগামীকাল খেলবে ভারতের বিরুদ্ধে। আজ  বাংলাদেশ টিম অনুশীলন করেনি। বিশ্রামে ছিল ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে স্বস্তিতে রাখতেই টিম ম্যানেজমেন্ট এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। বিশ্বকাপে এখন  ২টি জয় পাওয়া সাকিব বাহিনীর সামনে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ। ভারতকে হারাতে পারলে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। তাই ভারতকে হারানোর ছকই করছে বাংলাদেশ।

ভারতীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নে সাকিবের উত্তর, ‘ভারত ফেবারিট টিম। তারা বিশ্বকাপ জিততেই এসেছে। আমরা ফেবারিট না, আমরা এখানে বিশ্বকাপ জিততে আসিনি। ভারতের বিপক্ষে আমরা যদি জিততে পারি, তাহলে এটি অঘটন হবে। আমরা আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবো। আর সেরাটা দিতে পারলে আমরা অঘটন ঘটাতে পারব।

 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচটিও অ্যাডিলেডে। ৬ নভেম্বরে ওই ম্যাচে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশির কাছে হারলে এই ম্যাচেই শেষ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আইএ/এসডি-১১