সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ৩৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। অন্যদের ধারণা থাকলেও মানসিক অসুখ সম্পর্কে সচেতন ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২২ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীরা মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে অধিক সচেতন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এ সম্পর্কে বেশি জানে এবং তাদের সচেতনতার হার বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের একদল গবেষক দেশের ৯৬টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর উপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন। গত ১৭ অক্টোবর 'হেলিয়ন' নামে এক আন্তর্জাতিক জার্নালে 'মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান ও সচেতনতা' শিরোনামে তাদের এই গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের প্রধান পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। সঙ্গে ছিলেন ওই বিভাগের ছাত্র মো. আবু বকর সিদ্দীক, মোসাদ্দিকুর রহমান অভি, তানভীর আহম্মেদ ও মুহাম্মদ আব্দুল বাকের চৌধুরী।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘যারা ব্যক্তিগত আয় ও পরিবার থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা পাচ্ছেন’ এমন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা বেশি।
অন্যদিকে, ‘শুধু পরিবারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তা নিয়ে পড়াশোনাসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহ করছেন’ এমন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে জ্ঞান সবচেয়ে কম।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণ হিসেব ৭৪ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী সামাজিক সমস্যাকে আর ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবেশ দূষণকে দায়ী করেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভাগ্য কিংবা যাদুটোনাকেও কারণ বলে জানিয়েছেন। এর প্রতিকার হিসেবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আধুনিক মানসিক চিকিৎসা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার প্রয়োজন মনে করছেন। আবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী বলছেন, এর জন্য পরিবারের সদস্যদের সহানুভূতি প্রদর্শন আর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
এদিকে শাবির ওই গবেষকরা পূর্বের একটি গবেষণালব্ধ ধারণা থেকে বলছেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থের অবনতির কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্বাস্থ্যকর আবাসন ব্যবস্থা, অবাধ ও সমস্যাগ্রস্ত ইন্টারনেটের ব্যবহার, একাডেমিক পড়াশোনার চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। এ ছাড়া রয়েছে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক সমস্যা।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কীভবে বাড়ানো বা উন্নতি করা যায়’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন ‘সিলেট ভিউ’কে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি ডিসিপ্লিনে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটি কোর্স থাকতে পারে অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে, সেখানে কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থীদেরকে স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকেই মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ক্যাম্পেইন, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাইকোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া যায়, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই কাউন্সেলিং নিতে পারবেন।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/ইআ-০৭




