গত সোমবার (৭ নভেম্বর) সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনের দুই দিনের মাথায় সিলেট বিভাগের দীর্ঘতম এ সেতুর আলো নিভে গেছে। ফলে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় অবস্থিত কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুটি অন্ধকারে নিমজ্জিত। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাতের বেলায় সেতু দেখতে আসা লোকজন। তারা এনিয়ে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

 


জানা যায়- ২০১৭ সালে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিভাগের সর্ববৃহৎ এ সেতুটি ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। মূল সেতু নির্মাণ ও লাইটিং এর কাজ করে এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। গত সোমবার (৭ নভেম্বর) এ সেতুসহ সওজের আওতাধীন ১শত টি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের দুই দিনের মাথায় এ সেতুর উত্তর পাড়ের এপ্রোচে বসানো লাইটগুলো বিকল হয়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে দুয়েকটি লাইট জ্বলছে-নিভছে। এতে স্থানীয়দের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

 

হাওরাঞ্চলের পদ্মাসেতু খ্যাত এ ব্রিজ দেখতে বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসছেন। বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু উদ্বোধনের পর বিভাগের বিভিন্ন স্থান ও স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন মাধ্যমে সন্ধ্যার পর দলবল নিয়ে ছুটে আসছেন কুশিয়ারা পাড়ে। আনন্দে সময় পাড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের বেশিরভাগ লোকজন সেতুর আলো দিয়ে ছবি ও সেলফি তুলছেন। কিন্তু ব্রিজের আলো নিমজ্জিত হওয়ায় ছবি, সেলফি ও সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। ফলে তারা হতাশ হয়েছেন। 

 

তাদের মধ্যে রাহিম আলী নামের এক দর্শনার্থী বলেন- ‘উদ্বোধনের দিন থেকে আমাদের গ্রামের অনেক মানুষ সেতু দেখতে আসছেন। আজ এসেছিলাম বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কিন্তু ব্রিজে কোনো আলো নাই। অন্ধকার থাকায় বেশি সময় ব্রিজে থাকি নি। এসব বিষয়ে স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার জানান- ‘কুশিয়ারা নদীর উপর দাঁড়িয়ে অস্তমিত সূর্যের আলোর রূপ দেখতে ও বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে ছুটে আসছেন এখানে। সারা দিনের কাজ শেষে জনসাধারণ সন্ধ্যার পর জড়ো হন সেতুর উপর রাতে লাইটে সৌন্দর্য বৃদ্ধির কারণেও বেড়েছে পর্যটকরা কিন্তু লাইটিং সমস্যার জন্য সে আনন্দ উপভোগ করা হয় না। উত্তর পাড়ের লাইটগুলো অপ (বন্ধ) থাকায় হতাশ হয়ে মানুষ ফিরে যাচ্ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব লাইটগুলো আবার চালু করলে দর্শনার্থীরা আরও আসবেন।’

 

এ বিষয়ে এমএম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর রাণীগঞ্জ সেতুর প্রজেক্ট ম্যানেজার হারুনুর রশিদ জানান- ‘সেতু উত্তর পাশের লাইটগুলো কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য জ্বলছে না। ঢাকা থেকে কিছু মালামাল এনে কাজ করলে আবার লাইটগুলো চালু হবে। আর প্রায় সপ্তাহ খানের সময় লেগে যাবে।’

 


সিলেটিভিউ২৪ডটকম/জাকারিয়া/মুন্না