পরিকল্পনা কমিশনে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ইভিএম প্রকল্প। অক্টোবরে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পের বাজেট চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠায় ইসি। দেশে অর্থনৈতিক এই সংকটকালে ইসির এতবড় বাজেট নিয়ে সমালোচনা ওঠে। এমন বাস্তবতায় পরিকল্পনা কমিশন ইসির বাজেট আরো কাটছাট করে পাঠানোর জন্য ফেরত দেয়।

জানা গেছে, এরই প্রেক্ষিতে কমিশন থেকে আবারো প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। তবে কতোটাকা কাটছাট হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।


নতুন প্রকল্পে ইভিএম প্রতি দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ৫৩৪টি গাড়ি, ১০টি গুদাম তৈরি ও প্রায় এক হাজার লোকবল ইত্যাদি খাতে ৮ হাজার ৭১১ কোটি ৪৪ লাখ ব্যয় ধরেছে ইসি।

জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশন কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোসহ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কথা বলেছে পর্যবেক্ষণে। তবে ইসি বলছে, যেহেতু তারা আগে থেকেই ইভিএম ব্যবহার করছে, তাই একই যন্ত্রের ওপর ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কমিটির সুপারিশ নিয়েই প্রস্তাবটি ফের পাঠানো হচ্ছে।

১০ নভেম্বর নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা এসে সুপারিশসূচক স্বাক্ষরও করে গেছেন প্রকল্প প্রস্তাবে। এ বিষয়ে ইভিএম প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানান, পরিকল্পনা কমিশন বেতন-ভাতা, পরিবহন ব্যয়, মেইটেইনেন্স সার্ভিস কতখানি যথার্থ সেগুলো দেখতে বলেছে। প্রকল্প ব্যয় কিছু কমতে পারে। খুব একটা বেশি না।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘টেকনিক্যাল কমিটি মোটাদাগে যে সুপারিশ দিয়েছে সেগুলো হল আগামী নির্বাচন করতে গেলে বেশকিছু ইভিএম লাগবে। বর্তমানে যে ইভিএম আছে তা দিয়ে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, যে দেড়শ আসনের ক্ষেত্রে আমাদের আরও ইভিএম কিনতে হবে। রবিবার টেকনিক্যাল কমিটির সকলের স্বাক্ষরযুক্ত পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।’

এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ‘১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন ইভিএম কেনা না গেলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হবে না।’

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইআ-০৭