(প্রতীকী ছবি)

নগর বড় হওয়ার আগে থেকেই সিলেটে সুপেয় পানির সংকট। এখন বড় হয়ে নগর হয়েছে মহানগর। বর্ধিত এলাকায় এখনও পানিসেবা শুরু করেনি নগর কর্তৃপক্ষ।

আগের ওয়ার্ডগুলোতেই সুপেয় পানির সংকট বিরাজ করছে। অনেক সময় চাহিদার অর্ধেকও সুপেয় পানি পান না অনেক গ্রাহক। প্রায় প্রতিদিনই পানির অভাবে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। 


সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরের আগের ২৭টি ওয়ার্ডের ২৫টিতে পানিসেবা দেওয়া হয়। এসব ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের প্রতিদিন আট কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। বিপরীতে প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে সিটি করপোরেশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এক বছর ধরে নগরের তোপখানার পানির পাম্প হাউজ অকেজো হয়ে পড়ে থাকা, বড়শালার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালুতে দেরি হয়ো এবং অবৈধ সংযোগের কারণে সিলেট নগরে পানির সংকট বেড়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিসিকের অনুমোদিত দুই হাজার গভীর নলকূপের পাম্প রয়েছে। সিসিকের বৈধ পানির গ্রাহক রয়েছেন ১৮ হাজার। এসব গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির জন্য তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ সময় সিটি করপোরেশন চাহিদামতো পানি সরবরাহ করতে পারে না। এবার বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং পানির সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিনই পানির জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গ্রাহকেরা।

এদিকে, সিসিকের নতুন ১২টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ সীমানা বর্ধিতকরণসংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।  সে অনুযায়ী, ৪৯টি ওয়ার্ড নিয়ে সিসিকের বর্তমান আয়তন হচ্ছে ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার।

সিসিক সূত্র জানায়, এলাকা সম্প্রসারণ ও পানির চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১৪ সালে বড়শালায় (সারি নদ) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর জন্য ১৩ একর জায়গা অধিগ্রহণসহ ৮০৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ১৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্ট নির্মাণে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোপোজাল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রকল্পের জন্য ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি পত্র (ডিও) পাঠান। কিন্তু প্রক্রিয়া গ্রহণের আট বছরেও এই প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সিসিকের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান সিলেটভিউ-কে বলেন, সব সময় যে পানির সংকট হয় বিষয়টি এমন নয়। সিসিকের আগের ওয়ার্ডগুলোর লোকসংখ্যা অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় আট কোটি লিটার পানির প্রয়োজন। তবে পানির বৈধ গ্রাহকের চাহিদা ও পরিমাণ অনুয়ায়ী প্রতিদিন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকে অনুমোদিত আকারের চেয়ে বড় পাইপ দিয়ে পানি উত্তোলন করছেন। অনেকে পানির লাইনে অবৈধভাবে মোটর বসিয়েছেন। এ ছাড়া একটি পরিবার ভেঙে দু–তিনটি পরিবার হয়েছে। এর ফলে পানির চাহিদা বেড়েছে। তাই অতিরিক্ত পানি উত্তোলন করায় ও লোডশেডিংয়ে মাঝেমধ্যে পানির সমস্যা হচ্ছে।

বড়শালায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট সম্পর্কে আলী আকবর বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যা যা দরকার, সবকিছু প্রস্তুত করে সিসিকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তোপখানার পাম্প হাউজের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অনেক পুরনো। এটি এখন সংস্কার করা প্রায় অসম্ভব। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম