দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বান্দরবানের তাজিং ডং নাকি সাকা হাফং, তা নিয়ে গত এক যুগ ধরে চলছে বিতর্ক। ফলে নতুন করে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণের জন্য কাজ শুরু করেছে জরিপ অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) জরিপ অধিদপ্তরের ৩৫ জনের একটি দল দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে।

জানা যায়, জরিপ দলের সদস্যরা ৪০ দিন ধরে রুমা ও থানচি উপজেলার পাহাড়গুলো পরিমাপ করে সর্বোচ্চ পাহাড়ের শীর্ষবিন্দু নির্ণয় করবেন।



জেলার দুর্গম রুমা উপজেলায় অবস্থিত কেওক্রাডংকে সরকারিভাবে একসময় দেশের সর্বোচ্চ পাহাড় হিসাবে গণ্য করা হতো। বর্তমানে সরকারিভাবে তাজিংডং পাহাড়কে সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। তবে পাহাড়ের গহীনে যারা ভ্রমণ করেন তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন তাজিংডং নয়, সাকা হাফং বা মদক তং দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গ।

এই বিতর্ক নিরসনের জন্য জরিপ অধিদপ্তর থেকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ণয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


এর আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ পর্বতারোহী ২০১০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ১০ দিন বান্দরবানের বিভিন্ন পর্বতে আরোহণ করেন। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমসহ ভৌগোলিক অবস্থান নির্ণয়ের সব আধুনিক সরঞ্জাম ও জিপিএস দিয়ে তারা পর্বতগুলোর উচ্চতা রেকর্ড করেন। সেসময় তারা জরিপ করে সাকা হাফংকে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে মূলত দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ সরকারিভাবে পরিমাপের জন্য ২০২২ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তরের কাছে একটি চিঠি পাঠান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু বা পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণ ও অন্যান্য পর্বতগুলোকে সরকারিভাবে পরিমাপ করে গেজেট প্রণয়নের জন্য অনুরোধ জানান।


বান্দরবানের রুমা উপজেলার বাসিন্দা শৈহ্লা চিং মার্মা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি, সেটি নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়, নতুন করে সরকারিভাবে জরিপের ফলে এর অবসান হবে।”

এদিকে, সম্প্রতি জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জরিপ) দেবাশীষ সরকার জেলা প্রশাসককে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি থানচি ও রুমা এলাকার পাহাড়সহ দুর্গম এলাকায় অবস্থিত পাহাড়গুলো পরিমাপের কথা জানান।

 

ইংরেজ পর্বতারোহী জিনজে ফোলেনের মতে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মৌদুক মুয়াল। এর আরেক নাম সাকা হাফং বা মদক তং। এটি বান্দরবানের বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থিত। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পর্বতারোহী ফোলেন জিপিএস দিয়ে মৌদুক মুয়াল বা সাকা হাফংয়ের উচ্চতা রেকর্ড করেন ১,০৬৪ মিটার। এই রেকর্ডটি রাশিয়া-পরিচালিত এসআরটিএম উপাত্তের সঙ্গে মিলে যায়। ওই উপাত্তে মৌদুক মুয়ালের উচ্চতা বলা হয় ১,০৫২ মিটার। বাংলাদেশেরও একটি পর্বতারোহী দল মৌদুক মুয়ালের উচ্চতা রেকর্ড করেন ১,০৬২ মিটার। এসব উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকা হাফং।


জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুরাইয়া আক্তার সুইটি ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, জরিপ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী তত্ত্বাবধায়ক এরশাদুল হক মণ্ডল জরিপ দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলটি থানচি ও রুমা উপজেলায় ৪০ দিন ধরে বিভিন্ন পাহাড়ের উচ্চতা পরিমাপ করবেন।


তিনি আরও জানান, ২৫ নভেম্বর জরিপ অধিদপ্তরের ৩৫ জনের একটি দল বান্দরবানে এসে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে।

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত-০৪


সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন