সিলেট মহানগেরর ব্যস্ততম এলাকা বন্দরবাজারে সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যারাতে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই ঘটে গেলো ভয়ংকর এক ঘটনা। অল্পের জন্য এক ছিনতাইকারীর ছুরির কবল থেকে রক্ষা পেলেন কয়েকজন পথচারী।
সোমবার সন্ধ্যারাত ৮টা ৫ মিনিট। মহানগরের জিন্দাবাজার থেকে হেঁটে হেঁটে ব্ন্দরবাজারের দিকে আসছিলেন আনুমানিক ৩৫ বছর বয়েসি এক যুবক। বন্দরবাজার এলাকার মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে আসামাত্র পিছন (জিন্দাবাজারের) দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশাতে থাকা দুই ছিনতাইকারী ওই পথচারীর হাতের মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরক্ষণেই ছিনতাইকারীদের অটোরিকশাটি দ্রুত গতিতে কিনব্রিজের দিকে ছুটতে থাকে। এসময় মুঠোফোন ছিনতাই হওয়া পথচারী চিৎকার করতে করতে ওই অটোরিকশার পেছনে দৌঁড়াতে থাকেন। তাঁর দৌঁড় দেখে অন্য পথচারীরা অটোরিকশাটি আটকাতে চাইলে আরও বেপরোয়া হয়ে তালতলার দিকে ছুটতে থাকে ছিনতাইকারীরা।
তবে ব্ন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনে যাওয়ার পর রাস্তায় যানজট দেখে অটোরিকশাটি দ্রুতবেগে ঘুরিয়ে ফের জিন্দাবাজারেরর দিকে যেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। এসময় কামরান চত্বরের অদূরে রাস্তায় (রাস্তার উত্তর পাশে) পথচারীরা ছিনতাইকারীদের অটোরিকশাটি প্রাণপণে আটকাতে চেষ্টা করেন এবং ঝাপটে ধারে এক ছিনতাইকারীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে নেন এক যুবক। তবে আরেকজন ছিনতাইকারী অটোরিকশা নিয়ে জিন্দাবাজারের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জনতার হাতে আটকা পড়া ছিনতাইকারী অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত প্যান্টের পকেট থেকে একটি ছুরি বের করে পথচারীদের দিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করার চেষ্টা চালায়। এসময় পথচারীরা ভয়ে তাকে ছেড়ে দেন এবং ছাড়া পেয়েই সেই ছিনতাইকারী দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। এসময় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পথচারী এক যুবক আহত হন। তাঁর কনুই কেটে রক্ত গড়াতে থাকলে মুঠোফোন ছিনতাই হওয়া যুবক তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে, ঘটনাস্থলের ৪-৫ হাত দূরে কামরান চত্বরে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন সিলেট মেট্রোপলিনটন পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের দুই সদস্য। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। এতে প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব কি শুধু গাড়ি আটকানো আর র্যাকার করা! এত বড় ঘটনা তাদের নাকের ডগায় ঘটে গেলো অথচ তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলো!! ছিনতাইকারীর ছুরির আঘাতে যদি কেউ প্রাণ হারাতেন তখন কী হতো?
পুরো বিষয়টি এ প্রতিবেদকের সামনেই ঘটে। পরে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদকে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক বিষয়টি অবগত করলে তিনি তৎক্ষণাত ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠান।
ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর করলে তিনি বলেন- তারা তো আলাদা ডিপার্টমেন্ট। তাই ট্রাফিক পুলিশ কী করলো এ বিষয়ে আসলে আমার কোনো মন্তব্য নেই। তবে যেহেতু চোখের সামনে এমন একটি ঘটনা ঘটলো তখন তাদের কিছু করা উচিৎ ছিলো।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




