মাঠে বাঁধা গরুর রশি খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চারজন। হত্যায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম খুরুশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঘটনাস্থল এলাকার জহির আহাম্মদের ছেলে জালাল উদ্দিন (২৮) এবং তার ছোট ভাই কামাল হোসেন (২৫)। আহতরা হলেন- তাদের প্রতিবেশী মো. ইদ্রিছ (৬৫) এবং তার তিন ছেলে মো. বাদশা (১৮), সালাউদ্দিন (২৬) ও মো. রানা (১৭)।


প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার নুরুল কবির জানান, শুক্রবার দুপুরের দিকে জালাল তার গৃহপালিত পশুকে মাঠে ঘাস খেতে বেঁধে দিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখেন, তার গরুর গলার দড়ি খুলে নিয়ে গেছে। খুঁজতে গিয়ে খুঁটিসহ দড়িটি শফিকুল ইসলামের হাতে দেখতে পান। এই নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। শফিকুলের মাথায় আঘাত লেগে ফেটে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

দুপুরের এই ঘটনার জেরে একই দিন বিকালে শফিকুল ইসলামের তিন ছেলে খোরশেদ, মোরশেদ ও সাইফুল মিলে জালাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে ভাই কামালসহ প্রতিবেশী ইদ্রিছ ও তার তিন সন্তান এগিয়ে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুই ভাই জালাল ও কামাল। গুরুতর আহত হন প্রতিবেশী ইদ্রিছসহ তার তিন ছেলে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে নিয়ে যান।

ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম (৬২) ও শফিকুলের ছেলে খোরশেদকে (২৮) আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা। তবে হত্যায় অভিযুক্ত আরও দুজন মোরশেদ (২৩) ও সাইফুল (৩৫) পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, হাসপাতালে আনার পর দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ইদ্রিছের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যায় অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে আটক করা হয়েছে। পলাতক দুজনকে্ আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হবে। তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইআ-০২