(প্রতীকি ছবি)

নতুন বছরের শুরুতে প্রত্যাশা থাকে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির। একে অপরের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপনে এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন সবাই। কিন্তু নতুন বছর সিলেটবাসীর যেন নিয়ে এসেছে দুঃস্বপ্ন।

বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) থেকে (৯ জানুয়ারি পর্যন্ত) গত ৯ দিনে সিলেট বিভাগে ঘটেছে সংঘর্ষ, খুন ও আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর ঘটনা। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরেছে তাজা প্রাণ। ঘটেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঘটনাও। 


সিলেট ও জগন্নাথপুরে দুর্ঘটনায় মৃত্যু :
বছরের প্রথম দিনই (১ জানুয়ারি) সিলেট মহানগরের আম্বরখানা ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোড এলাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা টিটন পাল টিটু (২৪)। তাকে ভর্তি করা হয়েছিল একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারেননি। ৮ জানুয়ারি  রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা গেছেন টিটন। টিটন পাল বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের লাবণী পালের ছেলে। তিনি দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজে অর্থনীতি নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। এছাড়া খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টিটন পাল।

এ দিনই (১ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় গোসলের জন্য পানি গরম করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ফুজায়েল আহমদ (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এদিন বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফুজায়েল উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কামারখাল গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে।

কানাইঘাটে সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত : 
২ জানুয়ারি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল বাজারে মিশুক চালকের সাথে খারাপ আচরণের জের ধরে হামলায় জয়নাল আবেদীন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় চতুল বাজারের লালাখাল রোডের কামারহাটিতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয়নাল আবেদীন বড়চতুল ইউনিয়নের হারাতৈল উত্তর (উপর বড়াই) গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে।

একই দিন সিলেটে ট্রাক কেড়ে নেয় আশফাক উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর প্রাণ। ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওই সংঘর্ষে আরও ৫ জন আহত হন। ২ জানুয়ারি দুপুরে সিলেট নগরের প্রবেশদ্বার তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের ইউরো-বাংলা সিরামিকের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত আশফাক সিলেট সদরের হাটখোলা ইউনিয়নের পাগইল গ্রামের বাসিন্দা এবং শিবের বাজারের একটি স-মিলের মালিক। 

এ দিনই সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কাঠালবাড়ী গ্রামে জমি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। এরমধ্যে দুজনের অবস্থা ছিলো গুরুতর। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করে পুলিশ। ২ জানুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার কাঠালবাড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দিনই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুলিশের ভ্যানে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হন। ২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেজুড়া ব্রীজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কুলাউড়ায় ২ জনের অপমৃত্যু :
৩ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তায়্যিবা (৪) নামে এক শিশু ও পানিতে ডুবে হাফেজ আতিকুর রহমান (২২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র মারা গেছেন। এদিন সকালে উপজেলার ভূকশিমইল ও হাজীপুর ইউনিয়ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে, এদিন সকাল ১০টার দিকে কর্মধা ইউনিয়নের হাসিমপুর গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে হাফেজ আতিকুর রহমান হাজীপুরের কটারকোনা হোসাইনিয়া মাদ্রাসার পুকুরে ডুবে মারা যায়। তিনি ওই মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছিলেন।

একই দিন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক মোটরসাইকেল রাইডারের উপর গুলি বর্ষণ করে দুর্বত্তরা। গুলিবিদ্ধ যুবকের নাম সাদ্দাম হোসেন (৩২)। তিনি উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের খায়েরগাঁও গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭টায় কোম্পানীগঞ্জের পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের ঢালারপাড় ও গাছঘর গ্রামের মধ্যেবর্তী হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নজির মিয়া নামের আরো একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সে একই গ্রামের মৃত মতি মিয়ার ছেলে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত:
৪ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আলিম উদ্দিন (৩৩) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এদিন বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অটোরিকশার আরও চারজন যাত্রী। মৃত আলিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কলাইয়া জলিলপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।

সিলেটে কিশোরীর আত্মহত্যা:
৫ জানুয়ারি সিলেটে ১৩ বছর বয়েসি এক কিশোরী আত্মহত্যা করে। মহানগরের সুবিদবাজারে নুরানী আবাসি এলাকা থেকে ৫ জানুয়ারি বিকালে এই কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আত্মহত্যাকারী কিশোরীর নাম জান্নাত আরা শিপা (১৩)। পরিবারের সঙ্গে তিনি নুরানী আবাসিক এলাকার ৫১/১০ নং বাসায় থাকতেন।

সিকৃবিতে সংঘর্ষ :
৬ জানুয়ারি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় তিন ঘন্টা সংঘর্ষ হয়। এদিন বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্য থেকে পরবর্তীতে এক আহত ছাত্র চোখের দৃষ্টি হারান।  
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. এমদাদুল হোসেন শুক্রবার বিকেলে কর্মিসভা ডেকেছিলেন। তবে দলের অন্য একটি বলয়ের নেতাকর্মীরা সভা আয়োজন না করতে বলছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে বিকাল তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষকেই হলে সশস্ত্র অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এসময় শাহপরান হলের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।

দোয়ারাবাজারে এক দিনে দুই অপমৃত্যু:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ৬ জানুয়ারি এক দিনেই ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ দুই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এবং অপরজন পানিতে ডুবে। জানা যায়, দোয়ারাবাজারে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জহুরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক দিনমজুর মারা গেছেন। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৭ টায় উপজেলার মান্নারগাওঁ ইউনিয়নের কাটাখালি নোয়াগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত জহুরুল ইসলাম স্থানীয় ইদনপুর গ্রামের সৈকত আলী ছেলে।  

অপরদিকে, দোয়ারাবাজারে পুকুরে ডুবে পাবেল মিয়া (১৭) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে  উপজেলা সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর জামে মসজিদের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মংলা মিয়ার ছেলে।

একই দিন সিলেটে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় এক নারী আইনজীবীর মৃত্যু হয়। এদিন বিকেল ৩টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সিলেট-জগন্নাথপুর সড়কের বিশ্বনাথ উপজেলাধীন চানভরাং এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। ফারহানা বেগম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও একই সমিতির সদস্য ইসরাফিল আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী।

মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে শনিবার (৭ জানুয়ারি) ভোর রাতে বালুবোঝাই ট্রাক, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার প্রবাসী পরিবারের শিশুসহ ৩ জন নিহত হন। মালয়েশিয়া প্রবাসী ও কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মাদানগর গ্রামের রাজুকে ঢাকা বিমানন্দর থেকে মাইক্রোবাসযোগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বাড়িতে নিয়ে আসার সময় রাজু ও তার পরিবারের সদস্যরা মাধবপুরের নোয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সাথে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান মাইক্রোবাসের পেছন দিকে ধাক্কা দেয়। ত্রিমুখী সংঘর্ষের এ দুর্ঘটনায় রাজুর পরিবারের চার সদস্য ও মাইক্রোবাস চালক নিহত হন।

একই দিন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে মোটরসাইকেল-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এত আহত হয়েছেন ৬ জন। অহতদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, একই দিন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের পশ্চিম শ্বাসরাম গ্রামে জায়গা-জমি নিয়ে থাকা পূর্ব বিরোধের জের ধরে মুখোমুখি প্রবাসী দুই ভাই। এর জের ধরে ৭ জানুয়ারি সকালে জায়গা-জমি দখল ও পাল্টা দখল নিয়ে দু’পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন। এসংবাদ শুনে বিশ্বনাথ থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও নারীসহ উভয়পক্ষের ২৮ জনকে আটক করে। এরপর আটককৃতদের মধ্যে ২১ জন ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ এবং শিশু-নারীসহ অপর ৭ জন তাদের আত্মীয়-স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

একই দিনে সিলেট মহানগরের তেলিহাওর এলাকার সিল ভ্যালি ক্যাসল নামক ভবনে ফারহানা হক মিলি (২৪) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ৭ জানুয়ারি দুপুরে শয়নকক্ষ থেকে তার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়। পরে তার স্বামীকে আত্মহত্যার প্ররোচণা মামলায় কারাগারে প্রেরণ করেন আদালত। 
নিহত মিলি সুনামগঞ্জের জগ্ননাথপুরের সদর ইউনিয়নের মৃত সিরাজুল হকের মেয়ে ও দিরাই উপজেলার কালিয়ারখাপন গ্রামের আসকর আলীর ছেলে নুর আলমের (৩২) স্ত্রী।

এ দিনই মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রুমা মুণ্ডা (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৭ জানুয়ারি সকালে উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের জ্বালাই গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রুমা ওই গ্রামের কালিচন্দ্র মুণ্ডার মেয়ে।

অপরদিকে, ৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও পুকুরের পানিতে ডুবে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিন সকাল এবং দুপুরে পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটে। 
জানা যায়, দোয়ারাবাজারে গাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জহুরুল ইসলাম (৫৫) নামে এক দিনমজুর মারা গেছেন। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টায় উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের কাটাখালি নোয়াগাঁও এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত জহুরুল ইসলাম স্থানীয় ইদনপুর গ্রামের সৈকত আলী ছেলে। 
অপরদিকে, ৭ জানুয়ারি দুপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে পাবেল মিয়া (১৭) নামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর জামে মসজিদের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের মংলা মিয়ার ছেলে।

জগন্নাথপুরে একটি বাড়ি থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার: 
৮ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের ফেচি আটঘর গ্রামে দিনভর অভিযান চালিয়ে  বিস্ফোরক তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম, বিস্ফোরক পাউডার ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিন 
সকাল থেকে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের ফেচির বাজারের দিঘলবাক গ্রামের মৃত আব্দুস সমিরের ছেলে আখলাকুর রহমানের বাড়িটি ঘিরে রাখে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বোম ডিসপোজাল ইউনিট, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ টিম এসে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে একটি রিভলবার, একটি ল্যাপটপ, ৯টি মোবাইল ফোন, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও পাউডার, দুইটি ওয়াকিটকি সাদৃশ্য বস্তু ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এর আগে এ বাড়ির দুই সদস্যকে শনিবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানাধীন পীর মহল্লার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ফেচি আটঘর গ্রামের আখলাকুর রহমান (৭০) ও তার ছেলে আমজাদুর রহমান (২০)। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহানগরের পীর মহল্লার ঐক্যতান ৯/১১ বাসা থেকে জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ সিলেট এয়ারপোর্ট থানাধীন আম্বরখানা ফাঁড়িপুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ বাসায় তারা ভাড়া থাকতেন। পরে সোমবার তাদের জেলহাজতে পাঠান আদালত।  

এদিন (৮ জানুয়ারি) সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে তারা ভানু নামে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের রসরাই গ্রামের হারিছ আলীর স্ত্রী। জানা যায়, জমি নিয়ে নিহতের পরিবারে দ্বন্ধ ছলছিল দীর্ঘদিন ধরে। একপর্যায়ে শত চেষ্টার পরেও গত শনিবার রাতে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিরোধটি মীমাংসা হয়নি। পরে অভিমান সইতে না পেরে ওই রাতের কোনো এক সময়ে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বাড়ির সামনে আমগাছের সাথে শাড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তারা বানু। এদিকে রাত ২টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুল বাতেন স্থানীয় মাহফিল থেকে ফেরার পথে বাড়ির সামনে এসে তার বৃদ্ধ মাকে আম গাছের সাথে ঝুলন্ত দেখে চিৎকার দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠায়।

একই দিন হবিগঞ্জের মাধবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শরিফ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ৮ জানুয়ারি সকালে উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের মিঠাপুকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, মিঠাপুকুর গ্রামে শরিফ মিয়া ও ভাই শহিদ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনে ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো। রোববার সকালে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারির সৃষ্টি হলে প্রতিপক্ষের আঘাতে শাদত আলীর ছেলে শরিফ মিয়া মারা যান।

সর্বশেষ ৯ জানুয়ারি মৌলভীবাজারের জুড়ীতে রিমা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রিমার স্বামী কয়েছ মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে। এদিন বিকেলে উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। রিমা উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের যুগীমুরা গ্রামের বাসিন্দা রইছ আলীর মেয়ে।

এছাড়া একই দিন (৯ জানুয়ারি) সিলেটে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেছে মো. মাহির শাহরিয়ার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক সাবেক শিক্ষার্থীর। তিনি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রোববার মাহির ও জনি নামে একজন মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। সিলেট ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে বাসটি ডানে চাপিয়ে দেয়। এসময় বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা খান মাহির। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাইকের পেছনে থাকা জনির অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মো. মাহির শাহরিয়ার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার দা সূর্য সেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / শাকিল / ডালিম