স্বামী দাবিদার দুইজন এবং স্ত্রী সুলতানা। ছবি : রুবেল মিয়া
কুমিল্লা জেলার দেবিদ্দার থানার শাহজাহান মিয়ার মেয়ে আইরিন সুলতানাকে (৩৫) ১৯ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি থানার বাদিয়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মো. খোকন মিয়া (৪৫)। বিয়ের পর একে একে তাদের ঘরে জন্ম হয় চার সন্তানের।
কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর খোকনের সংসার ফেলে তালাক না নিয়েই সুলতানা বিয়ে করে ফেলেন আরেকটি। এ নিয়ে সিলেটে বুধবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঘটে গেলো তুলকালাম কাণ্ড। বর্তমানে স্বামী দাবিদার দুজন এবং সুলতানা রয়েছেন পুলিশের হেফাজতে।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে স্ত্রী আইরিন সুলতানা ও সন্তানদের নিয়ে সিলেটে চলে আসেন খোকন। পরে ২০১৯ সালের শুরুতে তিনি চলে যান মালদ্বীপ। এরপরই সুলতানা বিভিন্নজনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। একপর্যায়ে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার কাউয়াদি গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে কবির হোসেনের (৩৬) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুলতানার। ১৫ মাস আগে সিলেটে কোর্ট ম্যারেজও করে ফেলেন কবির এবং সুলতানা। চার সন্তান ও স্বামী খোকনের সংসার ছেড়ে চলে সুলতানা যান কবিরের ঘরে। কবিরের সঙ্গে বিয়ের সময় সুলতানা নিজেকে তালাকপ্রাপ্তা উল্লেখ করেন।
খবর পেয়ে দেশে ফিরে হন্য হয়ে সুলতানাকে খুঁজতে থাকেন খোকন। অবশেষে বুধবার বিকেল ৫টায় সিলেট মহানগরের লামাবাজারস্থ আয়েশা মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সামনে রাস্তায় সুলতানাকে খোকন পেয়ে যান। এসময় তার বর্তমান স্বামী কবিরও সঙ্গে ছিলেন। কবির হোসেন দক্ষিণ সুরমার কদমতলিস্থ ড্রাইভার রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি। বিয়ের পর সুলতানাকে তিনি আয়েশা মেডিকেয়ারে আয়া’র চাকরি পাইয়ে দেন।
এদিকে, বুধবার বিকেলে আয়েশা মেডিকেয়ার জেনারেল হাসপাতালের সামনের রাস্তায় সুলতানা ও কবিরকে পেয়ে পাকড়াও করেন খোকন। এসময় তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা এবং হাতাহাতি হয়। পরে খোকন ও তার সঙ্গীরা এ দুজনকে ধরে শাহজালাল উপশহরের তেররতনে নিয়ে যান। সেখানে একটি বাসায় খোকন সন্তান ও তার বোনকে নিয়ে থাকেন। পরে খোকন বিষয়টি নিয়ে সিসিকের ২২, ২৩ ও ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেবেকা আক্তার লাকীর দ্বারস্থ হন। লাকি পরে এ তিজনকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) শাহপরাণ থানাপুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ বিষয়ে কথা হয় সুলতানার প্রথম স্বামী দাবিদার খোকনের সঙ্গে। তিনি সিলেটভিউ-কে বলেন- আমার জীবনের সবকিছু শেষ করে দিছে এই নারী। আমি বিদেশে যাওয়ার পর মোবাইল, ফেসবুক, হোয়াটসআপ ও ইমুতে শত শত ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করেছে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে কবির নামের ওই ছেলেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। যাওয়া সময় আমার দেওয়া সব গয়না ও কয়েক লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমাকে নিঃস্ব করে ফেলেছে। আমার বাচ্চাদেরকে অসহায় করে ফেলে গেছে। আমি এখন ওর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দিবো। আমি তাকে চাই না, আমার ক্ষতিপূরণ চাই।
তবে দ্বিতীয় স্বামী দাবিতার কবির বললেন ভিন্ন কথা। তিনি সিলেটভিউ-কে বলেন- সুলতানা যার সঙ্গে থাকতে চাইবে আমি রাজি। ও প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে আমার আপত্তি নাই। আমি তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। ভালোবেসেই না হয় প্রথমস্বামীর কাছে তাকে ফেরত দিবো। তবে আমাদের কোর্ট ম্যারেজের কাগজপত্র আমার কাছে আছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় সুলতানার সঙ্গে। তবে তিনি মুখ খুলতে নারাজ। মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে সুলতানা বলেন- এই মুহুর্তে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




