এরকমই ভাঙাচোরা ওসমানীনগরের সড়কগুলো।
গত বছর স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের ওসমানীনগরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির আওতাধীন অধিকাংশ পাকা সড়কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব সড়কের মধ্যে অনেক সড়কই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতে বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। একাধিক সড়কের সেতু-কালভার্টের অ্যাপ্রোচ ভেঙে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। ভাঙাচোরা এসব সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে উপজেলার জনসাধারণকে। বন্যার পর প্রায় ৭ মাস অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীর অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন ৬৬২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যার ৯২ ভাগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর পাকা-আরসিসি মিলিয়ে ২০২ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ৩৪৯টি সড়কের মধ্যে ৩২০টিরও বেশি সড়কের সংস্কারে প্রয়োজন সাড়ে ৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
জানা গেছে, গত বছরের জুন-জুলাই মাসের বন্যায় ওসমানীনগরে বেশিরভাগ সড়কে খানাখন্দ হওয়ায় স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বন্যা পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সড়কে যানচলাচলও বন্ধ ছিল। এ ছাড়া বন্যায় একাধিক কাঁচা রাস্তার অস্তিত্ব যেন বিলীন হয়ে গেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ভোগান্তির পর স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে গত ১৬ জানুয়ারি ৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের ওসমানীনগর অংশে সাড়ে ৬ কিলোমিটার সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু শুরুর পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে সড়ক সংস্কার কাজ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। যদিও কার্যাদেশ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিগত বন্যায় বিভিন্ন সড়কের উপর দিয়ে ২-৫ ফুট পানি প্রবাহিত হয়। পানির তীব্র স্রোতে এবং কয়েকদিন পানি জমে থাকায় এসব সড়কের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি কমায় ভেসে উঠে ভাঙাচোরা সড়ক। বন্যা পরবর্তী এখন পর্যন্ত ৭ মাস অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কার ও সেতু-কালভার্টগুলোও মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী এসএম আব্দুল্লাহ-আল মামুন সিলেটভিউকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক সংস্কারে প্রয়োজন সাড়ে ৮৩ কোটি টাকার। সংস্কারের জন্য র্অথ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতু-কালভার্টগুলো মেরামতেও হাত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বালাগঞ্জ-তাজপুর সড়কের ওসমানীনগর অংশে তিন মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করতে ঠিকাধারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/রপা/আরআই-কে




