সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জায়গা জবরদখল নিতে বৃক্ষনিধন, ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী।
 

শনিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জমির মালিক মনিরুজ্জামান চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, গ্রামের শতাধিক গরু-বাছুর ফসলি জমিতে ছেড়ে দেয়া হয়। এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে ৮৫টি করচ জাতের গাছ উপড়ে ফেলা হয়। ফসলি জমির মাটি খনন করে পুকুর তৈরি করা হয়। মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামের লোকদের সংগঠিত করে দিনব্যাপী চালানো এ তান্ডব ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করে হামলাকারীরা। রেকর্ডীয় সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়।
 


সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দিরাই উপজেলাধীন কুলঞ্জ মৌজায় অবস্থিত বিভিন্ন দাগে ১১ তার একর বোরো জমি রয়েছে। যা তাদের মৌরসী স্বত্ব ও খরিদা সম্পত্তি। তারা বংশ পরম্পরায় ভোগদখলরত রয়েছেন এবং সরকারের হালনাগাদ খাজনা পরিশোধ করা আছে।
 

তিনি বলেন, তার গ্রামের সাবান চৌধুরী, শিপার চৌধুরী মাফি, মিজান চৌধুরী গংদের সাথে গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে গত ২৪ জানুয়ারি সাবান চৌধুরী ও মিজান চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের অর্ধশতাধিক লোক রামদা, লাটিসোটাসহ এক্সভেটর মেশিন নিয়ে তাদের রেকর্ডীয় ভূমির বোরো জমিতে হীরা জাতের হালি চারা গরু-বাছুর দিয়ে চরিয়ে নষ্ট করে। এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে তার জমির আইলে লাগানো ৮৫টি খরচ গাছ একে একে নিধন করে। পরে উপড়ানো গাছগুলো তাদের লোকজন একে অন্যের সাহায্যে ধরাধরি করে টেনে নিয়ে যায়। এছাড়া এক্সেভেটর মেশিন দিয়ে তার ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করে। এ ঘটনায় তার প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মত ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
 

এ সময় তিনি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করেন।

মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি শিপার চৌধুরী মাফি তার ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ সম্প্রচার করে।

তিনি বলেন, তার ছেলে মিলাদ চৌধুরী বাদী হয়ে এ ঘটনায় আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করেছে। হামলাকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী। তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনায় তারা আতংকে আছেন।
 

মনিরুজ্জামান চৌধুরী পরিবারের লোকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
 

এ ব্যাপারে সাবান চৌধুরী বলেন, এটা গোপাটের জায়গা মনিরুজ্জামান নকল কাগজ তৈরি করেছে। তারা গ্রামের মানুষের গরু, ছাগলকে ঘাস খেতে যেতে দেয় না তাই গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে এই কাজ করেছে।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/এসডি-২৮