প্রশাসন কঠোর হওয়ার পরও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নতুন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরং নবীন ছাত্র-ছাত্রীগের আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোয় বেড়েছে র‍্যাগিং নামক শিক্ষার্থী নির্যাতন।
 

গত কয়েক বছর ধরে এ অপসংস্কৃতি বন্ধ থাকলেও চলতি বছর শাবিতে নতুন করে র‍্যাগিং চালু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
 


গত ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ সেশনে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে শাবিপ্রবি। অভিযোগ রয়েছে- নবীনদের ক্লাস শুরু হওয়ার পরপরই ক্যাম্পাস, আবাসিক হল ও আশপাশের মেসগুলোয় চলছে ‘পরিচিত হওয়ার’ নামে র‍্যাগিং। আবাসিক হলগুলোয় উঠা নবীনদের প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত পরিচয়ের নামে মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন সিনিয়ররা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনগুলোয় উচ্ছ্বাসের পরিবর্তে আতঙ্কে কাটছে নবীনদের সময়।
 

গত মঙ্গলবারের পর থেকে আবাসিক হলগুলোতে ঘটে যাওয়া র‍্যাগিংয়ের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন শাবিপ্রবির নতুন শিক্ষার্থীরা। এতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে।

হয়রানির শিকার অনেকে জানিয়েছেন- নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শিষ্টাচার’ শেখানো বা সিনিয়রদের সঙ্গে পরিচয়ের নামে বিভিন্ন কায়দায় নির্যতন-নাজেহাল করা হচ্ছে। সালাম না দেওয়া, ঠিক মতো না হাঁটা, কারও দিকে তাকানোয় র‍্যাগ দেওয়া হচ্ছে।
 

কয়েকজনকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনেরও অভিযোগ উঠেছে ক্যাম্পাসের সিনিয়রদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে- র‍্যাগের অংশ হিসেবে কাউকে গান গাইতে বলে ভালো না লাগলে পেন ড্রাইভ দিয়ে দেয়াল মাপানো হচ্ছে। কাউকে আবার নাচতে বলা হয়। আবাসিক হলগুলোয় আবার বিভিন্ন ‘সিস্টেমে’ র‍্যাগ দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের মেসের র‍্যাগিং সিস্টেমও ভিন্ন ভিন্ন। এতে আতঙ্তিক হয়ে পড়ছেন নতুন ছাত্র-ছাত্রীরা। ভয়ে কাউকে কিছু মুখ ফুটে বলতেও পারছেন না তারা।
 

হোসাইন আহমেদ নামে শাবির সাবেক এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন- ‘শহীদ মিনারে উঠে প্রথম সেমিস্টারের অনেক স্টুডেন্টদের দেখেছি গ্রুপ করে বসে আড্ডা দিচ্ছে। একটু দূরে লক্ষ্য করলাম কয়েকজন ছাত্র নতুন দুইটা ছেলেকে র‍্যাগ দিচ্ছে। অনেকবার ভাবছি গিয়ে কিছু বলে আসবো বা কর্তৃপক্ষকে জানাবো। কিন্তু সাথে মানুষ থাকায় ঝামেলায় যেতে চাইনি। কয়েক জায়গায় ব্যানারে র‍্যাগিং নিষিদ্ধ লেখাও আছে। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আপনারা শহীদ মিনারসহ সম্ভাব্য জায়গাগুলো একটু নজরদারিতে রাখবেন প্লিজ।’
 

এস এম সানি নামে আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘এলাকার এক ছোট ভাই হল থেকে অসুস্থ হয়ে আজ বাড়ি ফিরছে। রাত ৩-৪টা পর্যন্ত ধরে রাখা এটাকে র‍্যাগ বলে না, অমানুষিক নির্যাতন বলে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নবীন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, রাতে হলের গ্রুপের সিনিয়ররা তাদের ফোন করে রুমে ডেকে নেন। সঙ্গে যারা আছে, তাদেরও নিয়ে যেতে বলেন। নবীনদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি, ইশারা-ইঙ্গিত, বিভিন্ন ধরনের হাসি-বিদ্রূপ করতে জোর করে। তাদের কথায় অসম্মতি জানালে বাবা-মাকে তুলে গালিগালাজ করেন। বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেন সিনিয়ররা।
 

শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্সে নীতি অবলম্বন করছি। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। অরিয়েন্টেশনে এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। র‍্যাগিংয়ে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর/এসডি-২৩