বছরজুড়েই দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক ছুটে আসেন সিলেটে। বেশিরভাগ পর্যটক জিয়ারত করে যান দেশের আধ্যাত্মিক শহর খ্যাত সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল ও শাহপরাণ রাহ.-এর মাজার।
ইতোমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শাহজালাল মাজার সড়ককে করা হয়েছে জঞ্জালমুক্ত। এই মডেল সড়ক এখন পর্যটকদের মন কাড়ে। এবার সিসিকের নজর পড়েছে সিলেট মহানগরের বর্ধিত এলাকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া শাহপরাণ মাজার সড়কে। এই সড়কসহ মাজার এলাকা সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করতে চান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ওই মাজার সড়কের দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। শীঘ্রই শুরু হবে ড্রেন নির্মাণের কাজ।
জানা যায়, এতদিন শাহপরাণ (রহ.) মাজার এলাকা ছিলো সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত। সিলেট সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিত হওয়ায় তা এখন সিসিকের অন্তর্গত। তাই শাহপরাণ মাজার সড়ক ও পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সিসিক।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এই মাজার সড়কটি ছিল একটি গলি সড়ক। এই সড়কের উভয় পাশে কয়েক শ’ অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। ফলে শাহপরাণ মাজারে আসা পর্যটক, ভক্ত ও মুসল্লিদের যাতায়াতে পোহাতে হতো ভোগান্তি। যানজট লেগে থাকতো সব সময়।
সিলেটের কৃতিসন্তান মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থমন্ত্রী থাকাবস্থায় শাহপরাণ মাজারের সড়কের শুরুতে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সময়ে এসে এই কাজ শেষ হয়। এরপর সেটি উদ্বোধন করা হয়।
সম্প্রতি সেই এলাকা আকর্ষণীয় করতে উদ্যোগী হয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফ। সেই লক্ষ্যে মাজার ফটকের যানজট দূর করতে তাঁর উদ্যোগে সিলেট-তামাবিল সড়ক আইল্যান্ড দিয়ে বিভক্ত করা হয়। মূল বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। ফলে মাজারের মূল ফটক এলাকার পরিবেশ বদলে গেছে, কমেছে যানজট। এবার মাজার সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাস্তার দুপাশে নির্মাণ করা হবে ড্রেন। পরে দুপাশে লাইট দিয়ে সড়কের মধ্যখানে ডিভাইডার স্থাপন করা হবে। লাগানো হবে কারুকাজখচিত গ্রিল অথবা ফুল গাছ।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন- কিছুদিন আগে ওই জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। মাজার এলাকার মূল সড়কের পাশের বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। এখন মাজার সড়কের কাজ করা হবে। এ সড়কের দুপাশে ড্রেন নির্মাণ করা হবে। দুপাশে লাগানো হবে লাইট।
তিনি বলেন- রাস্তা মেরামতের পর বিবেচনা করা হবে মধ্যখানে ডিভাইডার দেওয়া হবে কি না। ডিভাইডার দিলে এতে কারুকাজখচিত গ্রিল অথবা গাছ লাগানো হবে।
নুর আজিজুর রহমান জানান- শাহপরাণ (রহ.) মাজার সড়কসহ পুরো এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় মাজার সড়কের দুপাশে ড্রেনের উপরে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে করা হবে। মাজারের পুকুর পাড়কেও চারদিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে। শীঘ্রই এ কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে শুরু হবে কাজ। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শাহজালাল (রাহ.)-এর মাজার এলাকার মতো শাহপরাণ মাজার এলাকাও হবে দৃষ্টিনন্দন হবে। পর্যটকদের আরও বেশি টানবে শাহপরাণ মাজার।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




