সারাদেশে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে না পারায় সাধারণ মানুষ যে দুর্ভোগে পড়েছেন সেজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রী নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আশ্বস্ত করে বলেছেন, সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।


নসরুল হামিদ লিখেছেন, ‘এ বছর গ্রীষ্ম, সেচ মৌসুম এবং রোজা একসাথে হওয়াতে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে সেটা আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্ব প্রস্তুতির স্বাক্ষরও রেখেছি। কিন্তু গত ৫০ বছরের তাপমাত্রার রেকর্ডভেঙে বর্তমানে যে নজিরবিহীন দাবদাহ চলছে তাতে ধারণার চেয়েও বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। ফলে দেশের অনেক জায়গায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। এ অনাকাঙ্খিত দুর্ভোগের জন্য আমরা আন্তরিক সহমর্মিতা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।


সেইসাথে সবার অবগতির জন্য জানাতে চাই পরিস্থিতি উত্তরণে বিদ্যুৎ বিভাগ সর্বাত্মক কাজ করছে। খুব শীঘ্রই আবারও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ফিরে আসবে।

এদিকে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পেজে একই ধরনের বিবৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘এ বছর বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছবে তা বিবেচনা করে আমাদের উৎপাদন পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম। আমরা এর স্বাক্ষরও রেখেছি। গতরাতে (সোমবার) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৫৬০৪ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি।’
 

‘রেকর্ড উৎপাদন সত্ত্বেও বর্তমান বিগত প্রায় ৫০ বছরের রেকর্ড ব্রেক করে যে তাপদাহ চলছে তাতে বিদ্যুতের চাহিদা ধারনার চেয়েও বেশি বেড়ে যাওয়ায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে সম্মানিত গ্রাহকদের কষ্ট হচ্ছে। সেজন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা করি খুব শীঘ্রই পরিস্থিতির উন্নতি হবে,’ যোগ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ হোসাইন বলেছেন, ‘আসুন আমরা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হই। এতে চাহিদা কমে আসবে, ফলে লোডশেডিং করার প্রয়োজনীয়তা কমে যাবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হলে যেমন আপনার বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে, পাশাপাশি এটা দেশের ও লাভ।’

গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে শুরু হয়েছে সারাদেশে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে দেশের কোথাও কোথাও। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না। এতে দিনের বেলায় কাজ-কর্মে ব্যঘাত ঘটছে। ঢাকায় লোডশেডিং কিছুটা কম হলেও গত কয়েকদিন ধরে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে কারখানার উৎপাদন, ব্যবসা প্রতিষ্টানসহ অফিস-আদালতে কাজে ব্যঘাত হচ্ছে। অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে ইরি-বোরো চাষের শেষ সময়ে এসে জমিতে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় আশানুরূপ ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও অটোচালকরা ঠিকমত চার্জ দিতে না পারায় তাদের আয় কমে গেছে। শিক্ষার্থীদেরও পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটছে মারাত্মকভাবে। সবমিলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট। সক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদিত না হওয়ার জন্য জ্বালানি সংকট এবং কেন্দ্র মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের ত্রুটির কারণে প্রায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংকট সামলাতে এখন আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপেক্ষা করছে কর্তৃপক্ষ। তারা আশা করছেন, এই সপ্তাহ শেষে গরম অনেকটা কমে আসবে। আর গরম কমলে চাহিদাও কমবে, তখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/পল্লব-২১