ছবি: সংগৃহিত
এখনো সরগরম সিলেটের নরক কুন্ডগুলো! প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা। জমজমাট হয়ে উঠে একেকটা ছোটোখাটো ঘর। নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা আর মদ গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। চলে রাত গভীর থেকে কখনো কখনো ভোর পর্যন্ত নেশার আড্ডা।
এই নরক কুন্ডগুলোর কয়েকটার অবস্থান নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, কয়েকটা আবার শহরতলীর বিভিন্ন চা বাগানে।
সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বন্দরবাজার এলাকা। স্বনামেই বিখ্যাত এই এলাকাটি। এই বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি সংলগ্ন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সিলেটের প্রধান নরক কুন্ড হিসাবে কুখ্যাত। ছোটো ছোটে ঘরে গাদাগাদি করে মানুষতো থাকেই। কিন্তু সেই ঘরগুলোতেই চলে মদ-গাজা আর ইয়াবা ফেন্সিডিলের জমজমাট আসর।
এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ বা সাড়ে ৭টার দিকে জমতে শুরু করে কাষ্টঘর। তারপর মদের গ্লাসে চুমুকে চুমুকে জমে উঠে রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতিসহ দেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। গাজার কল্কিতে ধোঁয়া উঠে, উঠে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাগুলোও দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয় এখানে।
আতঙ্কের বিষয়, সিলেট এবং দেশের অনেক বড়বড় দাগি অপরাধীরাও পরিচয় আড়াল করে এখানে বসেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। আর এরমধ্যেই জীবন যাপন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবার পরিজন- নারী ও শিশুরা। রাত বাড়তে থাকলে হাল্কা হতে থাকে ভীড়, তখন সুযোগ জুটে কোলের শিশুকে শোয়ানোর। কখনো কখনো সেই সুযোগ পেতে পেতে শোনা যায় মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বণী।
অতোটা জম-জমাট না হলেও সুরমার দক্ষিণপারের সুইপার কলোনিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। আর এসব কলোনিতে মদের যোগান বাইরে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটের চা বাগানগুলো থেকে।
বাগানের চা শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ বিশেষ শ্রেণীর মদ উৎপদানের সাথে জড়িত- এটা প্রায় সবাই জানেন। তাদের উৎপাদিত মদ ‘বাংলা মদ’ হিসাবে পরিচিত এবং যারা মদের নেশা করেন তাদের কাছে এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে। ভালো নেশা হয় কিন্তু বিদেশী মদের তুলনায় স্বস্তা- জানালেন একজন মাদকসেবী।
শুধু উৎপাদন আর বাইরে বিক্রিই নয়, কোনো কোনো বাগানেও কাষ্টঘরের মতো এমন আসর বসে। অবশ্য পরিমাণে কম হলেও কাষ্টঘরেও বাংলা মদ উৎপাদন হয় বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
সেই কোনকাল থেকেই সরগরম সিলেটের এই নরক কুন্ডগুলো। কালেভদ্রে অভিযান হয়, কখনো পুলিশ, কখনো র্যাব আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনোবা যৌথ অভিযান। এতে দু’চারজন ধরাও পড়েন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনা।
কাজের কাজটি হচ্ছে নিয়মিত অভিযান বা স্থায়ীভাবে মদ গাজা ইয়াবা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। সেটি আর হয়ে উঠেছে না।
এ ব্যাপারে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের আগ্রহ, এত এত মাদক বিরোধী অভিযান হয়, অথচ পুলিশের নাকের ডগায় এত বড় মাদকের আস্তানা বহাল তবিয়তে কিভাবে টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে? আবার চা বাগানেই বা কিভাবে মাদক উৎপাদন বা নেশার আসর বসে? এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছেনা কেন?
এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে হোয়াটস অ্যাপে একাধিকবার ম্যাসেজ দিলেও তিনি কোনো উত্তর দেন নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে




