ছবি: সিলেট ভিউ।
সিলেটের ওসমানীনগরে দুপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে নিহত হওয়া সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়ার হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে এবং হত্যা মামলা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকির প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছেন বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামবাসী।
শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে আতিক হত্যাকান্ডে জড়িত সকল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বুরুঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম সিরাজনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ আকলিছ মিয়া ও আব্দুল ওহাব পাছুর মধ্যে দীর্ঘ দিন জায়গা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ চলে আসছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর আব্দুল ওহাব পাছু ও তার শ্বশুর আতর আলীর লোকজন আব্দুর রশিদ আকলিছ মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাংচুর করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এই ঘটনাটি মীমাংশা করতে সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মিয়াকে স্থানীয়রা ও পুলিশ অনুরোধ করলে আতিক মিয়া স্থানীয় প্রবীণদের নিয়ে আব্দুল ওহাব পাছুর শ্বশুর একই গ্রামের আতর আলীর বাড়িতে গিয়ে তাদের এমন কাজ করা ঠিক হয়নি বলে জানান।
পরবর্তী সময়ে এমন কর্মকান্ড না করার কথা জানিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিকাল টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা এসময় দেশীয় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত আতর বাহিনী আতর মিয়ার নির্দেশে আতিক মিয়াকে আক্রমন করেন। তাদের অস্ত্রের আঘাতে আতিক মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আতিক মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পরদিন ওসমানীনগর থানায় ১৯জনকে অভিযুক্ত ও ৪/৫জনকে অজ্ঞাত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাই মিনার মিয়া। মামলা দায়রের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও বেশিরভাগ অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে থাকলেও অধরা রয়েছেন।
এদিকে, থানা থেকে হত্যা মামলা তুলে নিতে অভিযুক্তরা বিভিন্ন মাধ্যমে ও একাধিক মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে আতিক মিয়ার পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধামকি দিচ্ছেন বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া হত্যা মামলার অভিযুক্ত মামুন মিয়ার স্ত্রী রেহানা বেগম বাদি হয়ে গ্রামের নিরীহ মানুষদের উপর সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। মানববন্ধনে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নিহত আতিক মিয়ার পিতা মাহমদ আলী, ভাই মিনার মিয়া, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খলিল মিয়া, সমাজ সেবক সৈয়দ আব্দুর রশিদ, ফয়ছল মিয়া, প্রবাসী রাজন মিয়া, রংগু মিয়া, আখতার মিয়া, আজিম মিয়া, মজনু মিয়াসহ অনেকেই। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।
এই বিষয়ে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্য মোর্শেদুল আলম ভূইয়া বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট পেলে আদালতে মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ রনিক/ এহিয়া




