ছবি: প্রতিকী ছবি।

সিলেটের বিশ্বনাথে সীমা বেগম (২৪) নামের এক যুবতীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে করেছে থানা পুলিশ।


রবিবার (৭ জুন) সকালে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রাম থেকে কোরআনে হাফেজ সীমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

সীমা শ্রীপুর গ্রামের গ্রামের ময়না মিয়ার কন্যা মেয়ে। তার পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগ ছিলেন সীমা বেগম।

 

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন সীমা বেগম। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘুম থেকে জেগে তার মা সীমাকে ঘরে দেখতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তারা নিজেদের বসত ঘরের পাশে নির্মাণাধীন ঘরের বারান্দায় সীমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তারা। এরপর খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সীমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। তাদের ধারণা মতে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঘুমানোর পর রাতের কোনো এক সময় বসতঘরের পাশে নির্মাণাধীন ওই ঘরের বারান্দায় গিয়ে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকা কোরআনে হাফেজ সীমা বেগম।
 

এব্যাপারে নিহতের বড় ভাই লাহিন মিয়া বলেন, আমার ছোট বোন সীমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগ ছিল। তাকে সুস্থ করে তুলার জন্য অনেক চিকিৎসকের চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের চিকিৎসাও চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায়ও তাকে সিলেট শহরের এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়ে ছিল। তাই এঘটনায় কারও বিরুদ্ধে তাদের পরিবারের কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ নেই।

নিহতের ফুফাতো বোন ও রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার আঙ্গুরা বেগম বলেন, সীমা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিল। একারণে অনেক সময় রাতের বেলা সবার অজান্তে সে ঘরের বাইরে চলে আসতো। এজন্য পরিবারের সদস্যরা সর্বদা তাকে চোখে চোখে রাখতেন। সীমাকে সুস্থ করে তুলার জন্য অনেক ধরনের চিকিৎসাও চলছিল। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছেন, কিন্ত কারও বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের কোন অভিযোগ নেই। এটি আত্মহত্যা বলেই আমাদের ধারণা।
 

সীমা বেগেমের মরদেহ উদ্ধার ও ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে প্রেরণ করার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোজ প্রভাকর রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। তবে শতভাগ নিশ্চিত ও আসল কারণ জানার জন্য সীমা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রনঞ্জয়/ এহিয়া