আবারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখল মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘সাইবার নটস ২০২৬’-এ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম নেক্সট_জেন’। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার ফলাফল সম্প্রতি প্রকাশিত হলে আনন্দে ভাসে পুরো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরিবার। দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শক্তিশালী প্রতিযোগী দলকে পেছনে ফেলে এই বিজয় অর্জন করেছে সিলেটের এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উঠে আসা তরুণ শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতায় বিজয় নয়; এটি স্বপ্ন, অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। দেশের প্রযুক্তি খাতে মেধা ও দক্ষতার যে বিকাশ ঘটছে, তার উজ্জ্বল প্রতিফলন দেখা গেছে এই অর্জনের মধ্য দিয়ে।

১৭ জুন অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন ঐতিহ্য সরকার অতিবো, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সানদিদ হক চৌধুরী এবং আমানুর রহমান আমান। দলের নেতৃত্বে ছিলেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ঐতিহ্য সরকার অতিবো। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলের বাকি তিন সদস্য জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সানদিদ হক চৌধুরী এবং আমানুর রহমান আমান সবাই প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এত অল্প সময়ের একাডেমিক অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া অসাধারণ কৃতিত্ব বলেই মনে করছেন সবাই। 

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার প্রমাণ। এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে শেখার আগ্রহ, নিয়মিত চর্চা এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব। বয়স, সেমিস্টার বা অভিজ্ঞতা কোনো শিক্ষার্থীর সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না—টিম নেক্সট_জেন সেই সত্যকেই বাস্তবে প্রমাণ করেছে।

প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপে দলটি তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি এবং দলগত সমন্বয়ের অসাধারণ পরিচয় দেয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, নিরলস পরিশ্রম এবং একে অপরের প্রতি আস্থা এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা যায়।

এই ঐতিহাসিক সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্ৰাফী এন্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস)। সংগঠনটির সভাপতি এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এই অর্জন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, পুরো সিলেট অঞ্চলের জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে যে সুযোগ সীমিত হলেও মেধা, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে দেশের সেরাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিজয় অর্জন করা সম্ভব।”

মুগাসের কোষাধ্যক্ষ এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রভাষক ইসরার নাজাহ্ চৌধুরী বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাদের অধ্যবসায়, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং দলগত কাজের উজ্জ্বল উদাহরণ। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে তারা আরও বড় মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে।”

মুগাসের ছাত্র উপদেষ্টা প্রিতম পাল বলেন, “টিম নেক্সট_জেনের এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প। এটি প্রমাণ করেছে যে বড় স্বপ্ন দেখার জন্য বড় শহর বা বড় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, অধ্যবসায় এবং নিরবচ্ছিন্ন শেখার মানসিকতা।”

এদিকে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তানভীর এম. ও. রহমান চৌধুরী বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অসাধারণ সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।”

ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে বিজয়ী দল রাজধানীতে অবস্থান করছে এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাদের বীরের বেশে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পর বিজয়ী দলকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের এই সাফল্যের অভিজ্ঞতা নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করারও পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, এই বিজয় শুধু চারজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি পুরো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি পরিবারের অর্জন। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, উদ্ভাবনী পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের সম্মিলিত ফল এই সাফল্য।

টিম নেক্সট_জেনের এই অর্জন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইতিহাসে গর্বের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে এবং নিজেদের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে