পরিবারের অমতে ঘর থেকে পালিয়ে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করেছিলেন খাদিজা আক্তার কাশফি (১৯)। কিন্তু বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় সেই স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। শুধু তাই নয়, মরদেহ হাসপাতালে ফেলে রেখেই কৌশলে পালিয়ে গেছেন স্বামী মোহাম্মদ মারুফ (১৮)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার (৬ নম্বর ওয়ার্ড) সৈয়দ মোল্লার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন।
নিহত খাদিজা আক্তার কাশফি স্থানীয় আবদুল জলিলের মেয়ে। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। অভিযুক্ত স্বামী মারুফ একই এলাকার আবদুস সালামের ছেলে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কাশফিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বামী মারুফ। সেখানে চিকিৎসক কাশফিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করার পরপরই, মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেন মারুফ।
চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী বলেন, নিহত ওই নারীর গলায় একটি মোটা দাগ রয়েছে।
বাবা আব্দুল জলিল বলেন, গত সাত মাস আগে (ডিসেম্বর) আমাদের পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। আমার মেয়ের বয়সও কম। বিয়ের পর থেকেই ওর স্বামী খুব নির্যাতন করে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার মেয়ের সঙ্গে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঝগড়া করেছে বলে খবরও পেয়েছি আমরা কিন্তু এভাবে মেরে ফেলবে সেটা বুঝতে পারিনি। রাতে মৃত্যুর খবর পাই।
কাফির মা শাহীনূর আক্তার বলেন, আমার ছোট মেয়েটা খুব আদরের ছিল। বিয়ের পরও আমি নিজে গিয়ে ওদের রান্না করে দিয়ে আসতাম। মেয়েটা তার স্বামীকে ছাড়া কখনো ভাত পর্যন্ত মুখে তুলত না। সেই স্বামী তাকে এভাবে মেরে ফেলতে পারল!
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে এক গৃহবধূর মরদেহ ফেলে স্বামী পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। নিহত গৃহবধূর গলায় দাগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৫



