কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম (৪৫) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।


কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, চট্টগ্রাম কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
 


কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার সকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের আমদানি ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় নুরুল আলম হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয় এবং আমদানি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। কারাগারে প্রবেশের সময় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। রাতেও তিনি কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানাননি। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে সাতকানিয়া থানায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় মঙ্গলবার নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
 

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। থানায় থাকা অবস্থায় তিনি সুস্থ ছিলেন এবং তাকে কেউ মারধর করেনি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে নুরুল আলমের ভাই নূর মোহাম্মদ গণমাধ্যমে দাবি করেন, এলাকায় জমি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতার সঙ্গে তাদের বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার ওই জমি-সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নিতে সাতকানিয়া ভূমি অফিসে গেলে সেখান থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে।
 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নুরুল আলমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৪