ছবি: সিলেট ভিউ।
প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯ জন শিক্ষার্থী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে তারা দীর্ঘ সময় পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে ছিলেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশের সময় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন পরীক্ষার্থীর সাথে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র ছাড়া তারা শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের আটকে দেন। এ সময় তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে ইউএনও কলেজে যান। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান। পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করেন। বোর্ডের বিশেষ অনুমতিতে বিলম্বিত সময়ে ওই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ‘ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করার পরও তারা তাদের পরীক্ষার প্রবেশপত্র পান নি। আজ পরীক্ষার প্রথম দিন তারা সকলেই প্রবেশপত্র ছাড়াই উপস্থিত হন পরীক্ষা কেন্দ্রে।পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে তাদের অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। যদিও কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করেছিল, তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে তারা জানিয়েছেন।’
ভুক্তভোগীরা হলেন, কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া ও শ্রাবন্তী শীল। এর মধ্যে বৃষ্টি আক্তার নামে অনিয়মিত এক শিক্ষার্থীরও প্রবেশপত্র আসেনি।
রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল স্বীকার করেছেন যে, ‘বিষয়টি তাঁর নলেজে ছিল না। তিনি এর দায়ভার কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং নিজের ওপর নেন।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পরীক্ষার কেন্দ্রে এসে কলেজের অধ্যক্ষ, দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনেছি, অসচেনতার অভাবে ৯জন পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি। পরবর্তীতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। সে অনুযায়ী বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে জেলা প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই দায়িত্বহীনতার ফল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ সাইফুল/ এহিয়া




