আজ আমাদের আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিন। ১৭৭৬-২০২৬ সময়টা দীর্ঘ। আমি আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়েছি ২০০৬ সালে। সেটারও ২০ বছর।
সারা পৃথিবী বলে, আমেরিকা ল্যান্ড অফ অপরচুনিটি। কথাটা ২০০ শতাংশ খাঁটি। পরিশ্রম করবেন, আপনি সততায় জীবন কাটাবেন, আপনার উন্নতি হবেই। আর আমাদের মধ্যে যারা অসততায়, বেনিফিটে আছেন বা হারাম রোজগারের আয় করেন, তারাও সুপ্রতিষ্ঠিত হন। তবে তারা হীনমন্যতায় ভুগেন।
পরিশ্রম করলে সাথে একটু শার্প হলেই আপনি বাড়ী, গাড়ী, ব্যবসা বানিজ্য, ভাল চাকুরী নিয়ে মহাআনন্দে জীবন পার করবেন।
আমরা যারা আমেরিকায় বসবাস করি, সারা দিন যদি আমেরিকার জন্য দোয়া করি। তারপরও আমেরিকার ঋণ শোধ হবে না।
আপনি মসজিদ বানাবেন, মাদ্রাসা বানাবেন, ইসলামী স্কুল বানাবেন, মুসলিম কবস্থান বানাবেন। বানান, কোন বাধা নেই। পারমিশন পাবেনই। কট্টর কিছু আমেরিকান হালকা আপত্তি তুলবে, তবে তা টিকবে না। এটাই আমেরিকা। এটাই আমেরিকার বিউটি।
আজ যদি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঢাকাস্থ আমেরিকান এম্বেসি একটা গির্জা বানাতে চায়, তাহলে এলাকায় তুমুল হট্টগোল হবে। অথচ আমেরিকায় তাবলিগ জামাতের ক্যাম্পেইন চলে সারা বছর।
আমাদের আমেরিকার আইন সবার জন্য সমান। এখনও এই সততা ঠিকে আছে। আমি আমার ২৫ বছরের আমেরিকার জীবনে ২ বার মিথ্যা বলেছিলাম, ২ বারই আমার মিথ্যা টিকে নাই। ফাইন দিতে হয়েছিল।
আর আমাদের বাংলাদেশের আদালতে, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য ছাড়া মিথ্যা বলব না। কোন কিছু গোপন করিব না।’ -এটা বলেই মিথ্যা সাক্ষী শুরু হয়। বিচারক জানেন, সাক্ষী মিথ্যা বলছে, তারপরও তিন শুনছেন।
আমেরিকায় ‘সত্য সব সময় সত্য’। আপনি সত্য বলবেন, স্বীকার করবেন, আপনার দোষ। আপনি সহজে জীবন কাটাবেন।
আলহামদুলিল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিবছর কয়েক শত হাফিজ বের হচ্ছে আমেরিকায়। মাদ্রাসা হচ্ছে নতুন নতুন। হারামের পদচিহ্নে আমেরিকা ভরপুর থাকলেও, আপনি আপনার বুদ্ধিমান মন দিয়ে আমেরিকা জয় করবেন। এই সুযোগ আছে।
আমেরিকা অসাধারন একটি দেশ। মাইকে আজান দিয়ে নামাজ হয়। হালাল রেস্টুরেন্ট আছে সব সিটিতে। বড় বড় আমেরিকান গ্রোসারিতে মিলে হালাল মাংস। আমরা হাতে জবাই করা চিকেন খেতে পারি সব জায়গায়। আলহামদুলিল্লাহ।
একটি CDI গল্প:
হোন্ডা কোম্পানীর সিডিআই মোটরসাইকেল ছিল ৯০ দশকে স্বপ্নের মত। লাল ও সিলভার কালারের সেই সিডিআই বিত্তশালী না হলে কেনা অসম্ভব ছিল।
আমি ৯৩ সালে একবার ঠিকাদারী করে এবং আমার মইন দুলাভাইয়ের সহযোগিতায় পুরোনো একটি CDI কিনেছিলাম ৩২ হাজার টাকয়। ৮ মাস পর সেটা চুরি হয়ে যায়। কি যে মন খারাপ হল। তারপর এক বছর আর CDI কেনা হয়নি। সিডিআই হয়ে যায় লাখ টাকার বাইক। পরে ভারতের হিরো হোন্ডা কিনতে হয়।
আজ CDI শুনে পুরোনো কথা মনে পড়ল। দেশজুড়ে জুলাই নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জুলাই বিতর্কিত হয়ে গেছে আগস্ট ২০২৪-এ। জুলাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শের বিপক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। নিলুফার ইয়াসমিন এমপি যা বলেছেন, তাই সত্য। সবাই নিলুফার ইয়াসমিন এর সত্যটা মিলিয়ে নিচ্ছে।
শাওন একজন বুয়েট গ্র্যাজুয়েট জানতাম না। তিনি আর্কিট্যাক্ট। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন নতুন বন্দোবস্তে কেন কথা বলা যাবে না?
তবে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোকজন আতংকিত। বট বাহিনীর ভীত নড়েচড়ে উঠেছে। জুলাই নিয়ে অনেক সত্য এখন উন্মোচিত হচ্ছে।
এখন তো বাক স্বাধীনতার যুগ। তাহলে এখন কথা বলা যাবে না কেন?.
আমাদের আমেরিকায় আপনি ট্রাম্প/বাইডেনকে গালি দেন সারাদিন, কেউ কিছু বলবে না। এটাই বাকস্বাধীনতা। পুলিশ দাঁড়িয়ে আপনাকে পানি খাওয়াবে, নিরাপত্তা দিবে। আমেরিকার পতাকার রঙের সেন্ডেল-আন্ডারওয়্যার পড়েন কোন সমস্যা নাই।
জুলাইয়ের শুরু তো ক্ষমতার পটপরিবর্তনের জন্য ছিল না। এটা ছিল একটা কোটার আন্দোলন। আগের সরকারের প্রতি মানুষের মান-অভিমান ও ক্ষোভ ছিল। শুরুতে যেটা বৈষম্যেবিরোধী আন্দোলন ছিল সেটার পরিণতি কীভাবে সরকার পতনে গেল- সেটা জ্ঞান দিয়ে বোঝার বিষয়। একদিন সে সত্যও জাতির কাছে হয়তো উন্মোচিত হবে।
আমি আমরা গনতন্ত্রের মুল শক্তি বাক স্বাধীনতার জন্য কথা বলছি। আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।
১৯৯০ সালে এমসি কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছিলাম। আমি ৯০ এর যোদ্ধা। আমি কি ভাতা পাব, ফ্ল্যাট পাব, মুল্যায়ন পাব, স্বীকৃতি পাব? আমি তো ৩ জোটের রুপরেখার সৈন্য ছিলাম।
মহানায়ক, পল্লিবন্ধু মরহুম হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, আপনি মাফ করে দিবেন। আপনি স্বৈরাচারী ছিলেন না। ইউনুস স্বৈরাচারী ছিল। বিশ্ব বেহায়া ছিল। যে নিজেই নিজেকে ভিভিআইপি দাবী করে। দেশের সম্পদ লুট করেছে ইউনুস সরকার।




