মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর আবেগে ভেঙে পড়েন লিওনেল মেসি। নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, এই কান্নার পেছনে ছিল একদিকে ‘স্বস্তি’ আর অন্যদিকে পেনাল্টি মিসের ‘হতাশা’।

মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপে এই ম্যাচেই বাদ পড়ার শঙ্কায় ছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলের পর ৬৭ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুস্তাফা জিকো।


এর আগে ১৫ মিনিটে ইব্রাহিমের হেডে করা গোল শোধ করার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। বক্সের ভেতর হাইসেম হাসা ফাউল করেছিলেন নিকলাস তালিয়াফিকোকে। তবে মেসির নেওয়া পেনাল্টি সহজেই ঠেকিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর। 

বিশ্বকাপে এ নিয়ে আটটি প্রচেষ্টার মধ্যে চারটি পেনাল্টিতেই ব্যর্থ হলেন মেসি। মিসের পর তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, ম্যাচের ফলাফল নিয়ে কতটা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তিনি।

তবে ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ীরা হার মানেননি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেডে করা গোলে ব্যবধান কমানোর পর মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ১৩ মিনিটের রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনে জয় নিশ্চিত হয় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে।

খেলা শেষে মিক্সড জোনে মেসি বলেন, ‘আমরা আবারও অনেক কষ্ট করেছি। তবে এটাই বিশ্বকাপ, প্রতিটি ম্যাচই খুব কাছাকাছি ব্যবধানের হয়। তাই আমি অনেক খুশি।’

সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্তে চোখের পানি ফেলতে দেখা যায় মেসিকে। এই আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘সবার জন্যই এটা ছিল একধরনের স্বস্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২-০ ব্যবধান থেকে ফিরে আসা সহজ নয়। কিন্তু এই দলটা কখনো হাল ছাড়ে না, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যায়।’

মেসি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যক্রমে কুতির [রোমেরো] গোলটা তাড়াতাড়ি পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমরা খেলা ঘুরিয়ে দিতে পেরেছি এবং নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই জিতেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজ এই দল যা করে দেখাল, তা অবিশ্বাস্য। আমি খুব খুশি যে মানুষ আমাদের খেলা উপভোগ করতে পারছে।’ তবে ২১ মিনিটে পেনাল্টি মিসের বিষয়টি এখনো পোড়াচ্ছিল মেসিকে। তিনি বলেন, ‘পেনাল্টি নিয়ে আমি সত্যিই হতাশ ছিলাম, সেটা মিস করা এবং বিষয়টা খারাপভাবে নেওয়া নিয়ে। আমি যদি সেই পেনাল্টিতে গোল করতাম, তাহলে খেলার পুরো চিত্রটাই বদলে যেত।’

মেসি বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট কিছু সুযোগ ছিল আর তাদের গোলরক্ষক অসাধারণ কিছু সেভ করেছেন। দলের ভেতরে যা ঘটেছিল, তার পর এই দলকে সাহায্য করতে পারাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু।’

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে লিওনেল স্কালোনির দল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড। এই বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এখন আট। এতে কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে এক গোলে এগিয়ে গেলেন তিনি। ছয়টি বিশ্বকাপে ৩১ ম্যাচ খেলে মেসির মোট গোল এখন ২১টি, যা এমবাপের চেয়ে দুটি বেশি। এমবাপে ১৯ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল।

 

সিলেটভিউ২৪টিকম/পিটি