সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ইঞ্জিন চালিত নৌকায় এক তরুণীকে (২৪) যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকাল ৪ টার দিকে কান্দিগাঁও নৌকা ঘাট থেকে শাল্লা সদরে আসার পথিমধ্যে একটি নৌকায় এই ঘটনা ঘটে।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী শাল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
 

এরই প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নৌকার মাঝি হেলিম মিয়াকে (১৯) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত হেলিম মিয়া, ৪নং শাল্লা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের রাজধর মিয়ার ছেলে।
 

সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় তার এক আত্মীয়র বাসায় উদ্দেশ্যে কান্দিগাঁও নৌকা ঘাটে আসেন। বৃষ্টির কারণে নৌকা ঘাটের একটি টং দোকানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে শাল্লা যাওয়ার জন্য একটি নৌকা ভাড়া (রিজার্ভ) করেন। এরমধ্যে একজন যাত্রী (পিন্টু নামের) শাল্লা যাওয়ার জন্য ওই নৌকায় উঠতে চান। প্রথমে নৌকার মাঝি হেলিম মিয়া যাত্রী পিন্টুকে অন্য নৌকায় যেতে বলে। পরে যাত্রী পিন্টুর অনুরোধে মাঝি ১শ টাকা ভাড়া দাবি করে। ঐ যাত্রী ৫০ টাকা বললে তখন মাঝি শর্ত সাপেক্ষ নৌকা চালানোর কথা বলে যাত্রীকে নৌকায় উঠায়। নৌকাটি কান্দিগাঁও ঘাট হতে শাল্লাগামী একটু দূরে যাওয়ার পর নৌকার ভিতরে বসে থাকা অবস্থায় নৌকার মাঝি তরুণীর স্পর্শকাতর জায়গায় একাধিক টাচ করে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। ঐ সময় তরুণীর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে নৌকায় থাকা যাত্রী (পিন্টু) এগিয়ে আসে এবং নৌকার মাঝি হেলিমকে ধমক দিয়ে পিছনে যেতে বলে। পরে নির্যাতিত তরুণী বিষয়টি তার আত্মীয়কে ফোনে বলার পর মাঝি মেশিন বন্ধ করে দেয় এবং শাল্লা সদরে আসতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন ঐ যাত্রী পিন্টু নৌকার মাঝি হেলিমকে বুঝালে সে শাল্লা আসতে সম্মতি জানায় এবং শাল্লা হসপিটালে নামতে তরুণীকে চাপ প্রয়োগ করে। পরে তরুণীর অনুরোধে নৌকা শাল্লার গোদাম ঘাটে নিয়ে আসে৷ গোদাম ঘাটে নৌকা আসা মাত্র তরুণীর আত্মীয় ও স্থানীয় কিছু লোক তাকে উদ্ধার করে এবং খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক শাল্লা থানা পুলিশ নৌকার মাঝি হেলিমকে আটক করে থানার নিয়ে যায়। পরে তরুণী, নৌকায় থাকা যাত্রী পিন্টু ও তার আত্মীয় এবং স্থানীয় কিছু লোক থানায় হাজির হয়ে অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সাথে কথা বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
 

তবে নৌকায় থাকা ঐ যাত্রী পিন্টুর মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে শাল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তরুণীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১০ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (যার মামলা নং-০৬) তারিখ ০৭/০৭/২৬। অভিযুক্ত নৌকার মাঝি হেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/এসডি-০৯