সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার এক সৌদি প্রবাসীর জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় আইনি সহায়তা চেয়ে করা আবেদন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা।
প্রবাসীর অভিযোগ, ৭ লাখ টাকায় কেনা ৬১ শতক জমি দীর্ঘদিনেও রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। উল্টো অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে এবং তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) খন্দকার সেহরাজুস সালেহীন স্বাক্ষরিত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে প্রবাসী আহমদ আল ইয়াহইয়ার আইনি সহায়তার আবেদন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে অগ্রায়ন করা হয়েছে।
জকিগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর মানিকপুর ইউনিয়নের ফুলতলী গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আল ইয়াহইয়া বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। তার দাবি, বাবা মরহুম আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জীবিত থাকাকালে চাচা আব্দুল হক, ফুফু হুররে জান্নাত এবং ফুফা ফয়সল আহমদের কাছ থেকে বসতবাড়ির পাশের প্রায় ৬১ শতক জমি ৭ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ব্যাংক, বিকাশ ও নগদ অর্থের মাধ্যমে জমির পুরো মূল্য পরিশোধ করা হয় এবং জমির দখলও বুঝে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের পক্ষের বর্গাচাষী জমিটি চাষাবাদ করে আসছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে বাবার মৃত্যুর পরও পরিবার রেজিস্ট্রির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। কিন্তু অভিযুক্তরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই টাকা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি করা হবে না বলেও জানানো হয় বলে অভিযোগ তার।
আহমদ আল ইয়াহইয়ার অভিযোগ, বিদেশ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি দেশে ফিরলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো, খুন বা গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তার মা, অবিবাহিত বোন ও অন্যান্য স্বজনদের ক্ষতি করার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার দাবি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দার মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবেলা করবো।
উল্লেখ্য, কনস্যুলেটের চিঠির অনুলিপি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হাছিব/এসডি-১৩




