ছবি: সিলেট ভিউ।
প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার আসামি হওয়ায় যুক্তরাজ্যে ফেরার আগেই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাকসুদা চৌধুরী (৫৬)। রবিবার (১২জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিমানবন্দরে তাকে আটকের পর কোতোয়ালী মডেল থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃত মাকসুদা চৌধুরী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী। (তার পাসপোর্ট নং: GBR 157887306)
পুলিশ জানায়, রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মাকসুদা চৌধুরী। ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিচয় যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানার জিআর মামলা নং-০৩/৩৩৮, তারিখ ১ জুলাই ২০২৬-এর তথ্য পাওয়া গেলে বিদেশ যাত্রা স্থগিত করে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮১, তারিখ: ১২/০৭/২০২৬) মূলে আটক মাকসুদা চৌধুরীকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের আম্বরখানা মৌজার একটি ভূমি বিক্রির কথা বলে মাকসুদা চৌধুরী তার মেয়ের স্বামী, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ফুজাইল আহমদের সঙ্গে বিক্রয়চুক্তি করেন। ওই ভূমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাকসুদা চৌধুরীর দেওয়া প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, আম্বরখানা শাখার হিসাব নম্বরে গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে আরটিজিএসের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়। একই দিন তার অনুরোধে ব্যাংক এশিয়ার একটি চেকের মাধ্যমে আরও ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। সব মিলিয়ে তিনি ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের পর দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সরকারি ফি জমা দেওয়া হলেও দলিল সম্পাদনের ঠিক আগে মাকসুদা চৌধুরীর ননদের শাশুড়ির মেয়ের স্বামী সেখানে উপস্থিত হয়ে জমি বিক্রিতে আপত্তি জানান। এরপর মাকসুদা চৌধুরী কোনো কারণ ছাড়াই দলিল সম্পাদন না করে স্থান ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মাকসুদা চৌধুরী বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে তিনি অশালীন আচরণ করেন, অভিযোগকারী ও ফুজাইল আহমদকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা গ্রহণের বিষয়টিও অস্বীকার করেন। পূর্বপরিকল্পিতভাবে জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেও জমি রেজিস্ট্রি না করে এবং টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এতে অভিযোগকারী ও তার মেয়ের স্বামী আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘প্রতারণা মামলায় ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৩




