ছায়াঘেয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সম্মিলন লম্বা সরু পাইন গাছের সারি সারি সবুজের সমারোহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলো গ্রেটার বিংহামটন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক বনভোজন।
গত ১২ জুলাই প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়।
সারাদিন হৈহুল্লোড়ের পর পড়ন্ত বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র।
.jpg)
গ্রেটার বিংহামটন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কালাম উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক মিয়া’র সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী, ইনভেস্টর ও নিউইয়র্ক জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি মঈনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আতাউল গনি আসাদ, নিউইয়র্ক জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কোষাধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট রিয়েলেটর ব্যবসায়ী ময়নু জামান চৌধুরী, বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও প্রকাশক হুমায়ুন কবীর ঢালী, দেয়াল পত্রিকার সম্পাদক ও সাহিত্যিক সিব্বির আহমদ, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান ও সাপ্তাহিক বাংলা গেজেট পত্রিকার সহকারী সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম, বিংহামটনের রিয়েলেটর ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম মনু, সাংবাদিক শিবলী চৌধুরী কয়েস প্রমুখ।
.jpg)
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা, ছোট্ট বাচ্চাদের বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতা, বড় ছেলে-মেয়েদের ছিল বিভিন্ন ইভেন্ট, মহিলাদের পিলো খেলা, মনোজ্ঞ সঙ্গীত পরিবেশনা ও আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র।
পাঁচ ডলারের র্যাফেল ড্র’র টিকিটে ছিল স্বর্ন অলংকার, ৮৫“ বিশাল এল ডি টেলিভিশন, ল্যাপটপসহ অনেক পুরস্কার।
স্বনামধন্য লোকসঙ্গীত শিল্পী কালা মিয়ার গান উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে গহীনে স্পর্শ করে। বিশেষ করে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম ও মরমী সাধক হাসন রাজার জনপ্রিয় গানে উপস্থিত শ্রোতাদের উজ্জীবিত করেছে এবং তিনি যথেষ্ট প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সংগীত পরিবেশনায় শিল্পী কালা মিয়াকে বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন নিউইয়র্কের পরিচিত মুখ ঢোলবাদক সফিক মিয়া।
.jpg)
বনভোজনের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ তোফাজ্জল হক এবং মইন ইউ আহমদ, মুক্তা মিয়া , অন্যতম উপদেষ্টা ফয়সাল আহমেদ (বেলাল)।
অনুষ্ঠানে দুপুরে বংকসের নীরব রেস্টুরেন্টের মুখরোচক খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
উল্লেখ্য, বিংহামটন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রোম কাউন্টির সাসকুয়াহানা ও চেনাংগো নদীর তীরে একটি নিরিবিলি ছোট্ট শহর। দুরত্বে নিউইয়র্ক থেকে সাড়ে তিনঘণ্টা পথ। ৭-৮ বছর আগেও এই ছোট্ট শহরে হাতে গোনা কোন বাঙালি খোঁজে পাওয়া যেত না । কিন্তু, ইদানিং এ শহর জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। এই শহরের লোকসংখ্যা মাত্র ৪৭,৯৬৯ জন । আয়তন ১১.১৩ স্কয়ার মাইল। তারমধ্য ১০.৪৮ স্কয়ার মাইল ল্যান্ড ও পয়েন্ট ৬৫ স্কয়ার মাইল জলাশয়। ছোট এই শহরটায় মেয়র-কাউন্সিলর দ্বারা পরিচালিত। মেয়র জেরেড এম. ক্র্যাহাম রিপাবলিকান দলীয়।
.jpg)
ছোট পরিছন্ন শহরটায় বাড়িঘর অনেক কম মুল্যের হওয়াতে এরই মধ্য ৩-৪ হাজার প্রবাসী বিংহামটন-এ বসতি স্থাপন করেছেন। এখানে ইতোমধ্যে বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা , গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট, রিয়েলেটর ব্রোকার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এখানে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। নিউইয়র্কের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিংহামটন বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। মাত্র সোয়া ঘন্টার দুরত্বে রয়েছে আমেরিকার সেরা আইভি লীগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বনামখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়।
যারা নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করেন তাঁরা ইচ্ছা করলে এই ছোট্ট শহরে বসতি স্থাপনে চিন্তাভাবনা করতে পারেন ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/এসবিআর/পিডি




