খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ এলাকায় তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ৩১ হাজার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি দুর্বল হয়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৯ জুলাই বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে। এ ছাড়া চুক্তির শর্ত ভেঙে বালু উত্তোলনের অভিযোগে শামীম বিল্ডার্সের মালিক মো. ইকবাল হোসেন ও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
হবিগঞ্জ জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলেই খোয়াই নদের কালীগঞ্জ এলাকায় তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ৩১ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।’
লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সাহেব আলী জানান, আধা ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ২০০ ফুটের বেশি জায়গাজুড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, আদ্যপাশা, বনগাঁও কালীগঞ্জ, সুঘর ও কটিয়াদিসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরহামুয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বালু উত্তোলনকারী ঠিকাদার মো. ইকবাল হোসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে হবিগঞ্জ সদর থানায় এই মামলা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শামীম বিল্ডার্সের মালিক মো. ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
কালীগঞ্জ গ্রামের কৃষক আবদুল করিম (৪৫) বলেন, ‘শুধু ড্রেজার জব্দ করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
‘খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার’-এর তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ভারী যন্ত্র দিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু-মাটি উত্তোলনের কারণেই খোয়াই নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে, এটা বোঝার জন্য বড় বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। বালি মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী পাম্প বা ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। এর খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে।
সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও পরিবেশকর্মী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ‘ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনই এই ভাঙনের প্রধান কারণ। সনাতন পদ্ধতিতেও বালু তোলা যায়, কিন্তু ড্রেজার ব্যবহার করে তলদেশ থেকে বালু তোলা দেশের বালু উত্তোলন বিধিমালা ও পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ নির্মাণ করা বৃথাই যাবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি




