ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

প্রায় চার মাস ধরে হামের ‘হটস্পট’ হয়ে আছে সিলেট। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আড়াইশ’র নিচে নামছেই না। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে মৃত্যু। এর মধ্যে সিলেটে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। নমুনা পরীক্ষায় প্রতিদিন নতুন রোগী সনাক্ত হচ্ছে। ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলার প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আইসোলেশন শয্যা। 

 


স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাইরে থেকে আক্রান্ত হওয়া রোগীরাই মুলত সিলেটে ডেঙ্গুর শঙ্কা বাড়াচ্ছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন তারা।

 

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আকান্ত ৮১ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জে। জেলাটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত সনাক্তের সংখ্যা ৩৯। এছাড়া সুনামগঞ্জে ১৬ জন, সিলেটে ১৫ জন ও মৌলভীবাজারে ৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে এই আক্রান্তের সংখ্যা। 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু সনাক্ত হওয়া রোগীদের বড় একটি অংশ সিলেটের বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। বিশেষ করে কাজের সুবাদে ঢাকায় অবস্থানকালীন তারা আক্রান্ত হয়েছেন। ছুটিতে বা অসুস্থ হয়ে সিলেট আসার পর নমুনা পরীক্ষায় তাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সনাক্ত হয়েছেন। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। 

 

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের মধ্যে হবিগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। আক্রান্তদের বেশিরভাগ গার্মেন্টসকর্মী। কাজের সুবাদে তারা ঢাকায় অবস্থানকালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যাপারে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হলেই তাকে ওই আইসোলেশন শয্যায় ২৪ ঘন্টা মশারির ভেতর রাখা হচ্ছে। যাতে মশার মাধ্যমে আক্রান্ত রোগী থেকে অন্য কেউ অসুস্থ না হন। 

 

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। জেলা কীটতত্ত্ববীদের নেতৃত্বে একটি দল জেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান করছে। নমুনা পরীক্ষা করে কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে ওই এলাকায় মশক নিধন অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, স্যালাইন ও ঔষধ মজুদ রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। রোগী বাড়লে শয্যাও বাড়ানো হবে। আক্রান্ত রোগীরা যাতে নিজ নিজ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান সে বিষয়টি ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। যাতে জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ না বাড়ে।

 

ডা. জন্মেজয় আরও জানান, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদবাগানের টব ও আশপাশে পড়ে থাকা কোন কিছুতে যাতে বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সবাই এগিয়ে আসলে ডেঙ্গু মোকাবেলা সম্ভব।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ