ছবি: সিলেট ভিউ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনুমানিক রাত সোয়া ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন থোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 


গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মো. তৌকির হোসেন (৩৫)। সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার থোল্লাকান্দি এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে। 

 

ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র‍্যাব জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার থোল্লাকান্দি এলাকার বাসিন্দা রিফাত (২৫)-এর পরিবারের সঙ্গে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে তারা প্রায়ই ভিকটিম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিত। গত ১৪ জুন ২০২৬ রাত ৮টার দিকে ১৩ নম্বর আসামি আশিকুর রহমান ওরফে আশিক কৌশলে রিফাতকে ডেকে নিয়ে বাড়াইল দাশপাড়া এলাকার সমির দাশের বাড়িতে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অন্যান্য আসামিরা ওই বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে রিফাত গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের আলামত গোপন করতে লাশ নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকার সুটকি কান্দি জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন মেঘনা নদীর বালুচরে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে করিমপুর নৌ-পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনুমানিক রাত সোয়া ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানাধীন থোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার মামলা নং-৩৪, তারিখ-১৮/০৬/২০২৬খ্রি., ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে গুলি করে হত্যার পর লাশ গুম করার ঘটনায় এজাহারনামীয় ১২নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। 

 

উল্লেখ্য, এই মামলায় ১৮ জুলাই এজাহারনামীয় একজন আসামিকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-৯।

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৩