ছবি: এআই।

সিলেট নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ১১টি বড় ছড়া ও খাল। পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম এই ছড়া-খালের পাড়ে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য বাসা-বাড়ি। একতলা থেকে শুরু করে সারি সারি বহুতল ভবন রয়েছে ছড়া-খালের পাড়ে। এসব বসতবাড়ির অনেক মালিক ‘সেফটিক ট্যাংক’ না করে পাইপ দিয়ে পয়োবর্জ্য ফেলছেন জলাধারে।

 


এতে হুমকিতে পড়েছে নগরের জনস্বাস্থ্য। ছড়া-খাল থেকে পয়োবর্জের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এবার আল্টিমেটাম দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। তিন মাসের মধ্যে বিল্ডিংকোড অনুসরণ করে সেফটিক ট্যাংক নির্মাণ করে পয়োবর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

 

সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর ছড়া ও খালগুলোর পাড়ে কয়েক হাজার বাসা-বাড়ি রয়েছে। এসব স্থাপনার অনুমোদিত নকশায় পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেফটিক ট্যাংক উল্লেখ ছিল। কিন্তু অনেকে নকশা অনুমোদন করানোর পর শর্ত লঙ্ঘন কওে নির্মাণ করেন বাসা-বাড়ি। সেফটিক ট্যাংকের খরচ বাঁচাতে তারা পাইপ দিয়ে পার্শ্ববর্তী জলাধারে পয়োবর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করেন। অনেকে সেফটিক ট্যাংক পরিস্কারের খরচ বাঁচাতে ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে খালে ময়লা ফেলেন। এতে ময়লা ও দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। 

 

ভূক্তভোগীরা জানান, ছড়া ও খালে পয়োবর্জ্য ফেলার কারণে এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে ছড়া-খালে পানি কম থাকায় ময়লা জমে আশপাশ এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আর বর্ষা মৌসুমে পয়োবর্জ্য পানিতে ভেসে যায়। জলাবদ্ধতা তৈরি হলে এসব বর্র্জ্য অনেক সময় বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ে। 

 

পয়োবর্জ্য ছড়া-খালে ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, সিলেটের অনেকেই পয়োবর্জ্য ছড়া-খালে ফেলে দেন। পয়োবর্জ্যে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক অনেক জীবানু থাকে। পানি ও বায়ূবাহিত হয়ে এগুলো মানবদেহে প্রবেশ করে নানা ধরণের জটিল রোগ সৃষ্টি করে। বর্জ্য থেকে মশা-মাছিও অনেক রোগ ছড়ায়। এছাড়া পয়োবর্জের পরিবেশ নষ্টের পাশাপাশি দুর্গন্ধে সামাজিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। সিলেটে দিনদিন ছড়া-খালে পয়োবর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এটা বন্ধ করা না গেলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে। 

 

এদিকে, গত সোমবার মহানগরীর বাদামবাগিচা এলাকা পরিদর্শনে যান সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী। এসময় বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে অনেকে বাসা-বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর হয়। সেফটিক ট্যাংক থেকে পাইপ দিয়ে ছড়া-খালে পয়োবর্জ্য ফেলা আবার অনেকের বাসায় সেফটিক ট্যাংক না থাকার বিষয়টি দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

 

এ প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বাড়ছে। সেপটিক ট্যাংকের লাইন কখনোই সরাসরি ড্রেন বা ছড়ার সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে না। এতে ড্রেন দ্রুত ভরাট হয়ে যায়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ি নির্মাণের সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দিতে হবে, যাতে পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত না হয়।’

 

তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য তিনমাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ড্রেন ও ছড়ার সঙ্গে সংযুক্ত সব সেপটিক ট্যাংকের লাইন বিচ্ছিন্ন করে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থঅ নেওয়া হবে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ