ছবি: সিলেট ভিউ।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৪)।

 


শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন দলপা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বেখৈরহাটী এলাকার মৃত কমর উদ্দিনের ছেলে কনক মিয়া ও তার স্ত্রী সাগরিকা হিজরা।

 

ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, নিহত এনামুল হক (২৯) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার উত্তর মাঝিগাছা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আসামিদের সঙ্গে যৌথভাবে গরুর ব্যবসা করতেন। ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে আসামিরা প্রায়ই এনামুলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকি দিত। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এনামুলকে বুড়িচং থানাধীন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।

 

ভিকটিমের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে কুমিল্লার বুড়িচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং র‌্যাব-১৪, সদর কোম্পানী, ময়মনসিংহ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল শনিবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানাধীন দলপা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মামলা নম্বর-২৬, তারিখ-১৭/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ২০১৮; এর মূলে কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়। 

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

উল্লেখ্য, ১০ জুলাই একই মামলার এজাহারনামীয় একজন আসামিকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) গ্রেফতার করেছিল।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৫