হাওর কিংবা জলবায়ূ সম্পর্কিত দুর্গম অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সুনির্দিষ্ট পৃথক পরিকল্পনায় কাজ করছে সরকার। সরকার এসব অঞ্চলের শিক্ষাখাতের সকল সমস্যার সমাধানের কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
 

সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ প্রাইমারি টিচার্স ইন্সটিটিউট (পিটিআইয়ে) শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
 


এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষার মান্নোন্নয়নে হাওরাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নৌযান সার্ভিস, পাঠাদান সময় সময়সূচীর পরিবর্তন করা যায় কি না তা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে চলমান স্কুল ফিডিং প্রকল্প তদারকি জোরদার করা হয়েছে। শিশুদের খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, খাবারের মান পরীক্ষা ও সরবরাহের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন শক্ত করা হয়েছে। ফিডিং কার্যক্রমে কোনো ধরনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

এর আগে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করে অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলাধুলার মাঠ নির্মাণ এবং হাওরাঞ্চলের মতো বিশেষ এলাকার উপযোগী শিক্ষা অবকাঠামো গড়ে তুলতে মাঠপর্যায়ের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
 

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করছে। প্রতিটি খাদ্য চালান প্রত্যয়িত ফুড টেকনিশিয়ান দ্বারা যাচাই, আকস্মিক কারখানা পরিদর্শন, মাদার্স কমিটির মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শ্রেণিতে অভিভাবকদের নিয়ে ‘প্যারেন্ট সার্কেল’ এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সামাজিক নেতাদের সমন্বয়ে ‘স্কুল বন্ধু রেজিস্টার’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
 

এসময় সুনামগঞ্জ -৪ এর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আলিম এবং পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বক্তব্য রাখেন।

পরে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জ্বাজ।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শহীদনুর/এসডি-১২