ছবি: সংগৃহিত

সুখের আশায় স্বামী সন্তান ছেড়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের সাথে বিয়ের পীড়িতে বসতে সুদুর গাইবান্ধা থেকে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এসে প্রতারণার ফাঁদে আটকা পড়েছেন দুই সন্তানের জননী সুমাইয়া আক্তার (২২)।

 


তার আগমনী টের পেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজু । উপায়ান্তর না দেখে ন্যায় বিচারের দাবিতে গত তিনদিন ধরে আব্দুর রশিদের বাড়িতে অনশনরত রয়েছেন সুমাইয়া। লম্পট আব্দুর রাজ্জাক দোয়ারাবাজার উপজেলার বগুলাবাজার ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। ভুক্তভোগী সুমাইয়া আক্তার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর (চাপড়া) গ্রামের সামছুল হকের মেয়ে।

 

সুমাইয়া আক্তার জানায়, ঢাকার মাওনা এলাকার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজের সূত্রে বৃদ্ধ রাজ্জাকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বয়সের বিশাল ব্যবধান সত্ত্বেও বিয়ের প্রলোভনে সুমাইয়াকে ফাঁদে ফেলেন সুচতুর রাজ্জাক। এদিকে বিয়ের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়ে গত ১৪ জুলাই সুমাইয়াকে মাওনা থেকে দোয়ারাবাজারে নিয়ে এসে পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে তাকে নিয়ে দু'দিন রাত্রিযাপন করে রাজ্জাক । পরে প্রতারক রাজ্জাক কৌশলে সুমাইয়াকে ফের ঢাকায় ফেরত পাঠিয়ে দেন।

 

ঘটনাটি জানাজানি হলে সুমাইয়ার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় সুমাইয়া বিষয়টি রাজ্জাককে জানালে তাকে পুনরায় দোয়ারাবাজারে আসতে বলেন রাজ্জাক। তার কথা বিশ্বাস করে শনিবার (২৫ জুলাই) সুমাইয়া তার দুই অবুঝ শিশু সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন (৭) ও আশা মনিকে (৫) রেখে পুনরায় দোয়ারাবাজারে চলে আসেন। সুমাইয়া এলাকায় পা রাখামাত্রই লম্পট রাজ্জাক তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।

 

সন্তানহারা, সমাজচ্যুত এবং নিঃস্ব অবস্থায় চরম মানসিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তায় পড়ে সুমাইয়া অভিযুক্ত প্রতারক রাজ্জাকের বসতঘরেই ন্যায় বিচারের দাবিতে অবস্থান করে অনশনরত আছেন।

 

এহেন জঘন্য প্রতারণা ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। লম্পট ও প্রতারক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রেজুকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/তাজুল/ইকে