সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০.১১৫ লিটার বিদেশি মদ এবং বিয়ার উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। 


এই অভিযানের সময় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব মদের বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‍্যাব।



মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর নতুনবাজার সংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে এই মদ উদ্ধার করা হয়। 


অভিযানের সময় বিদেশি মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য ওই বাসার মালিকের ছোট ভাই সিলেট মহানগরীর শাহপরান (রহ.) উত্তর বালুচর এলাকার ইনরুস আলী আবু শিতাব (৪০) এবং সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালক মো. ফিরুজ মিয়ার ছেলে মো. মহর আলী (২৪) কে গ্রেফতার করা হয়।


জানা যায়, র‍্যাব-৯ সিপিসি ১ এর একটি আভিযানিক দল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সিলেট মহানগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বালুচর এলাকায় প্রবাসীর একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় ওই বাড়ির নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিভিন্ন ব্রান্ডের ৮৮২ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়। 


উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করছে র‍্যাব। 


অভিযানের সময় মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবের সম্পৃক্ততার পায় র‍্যাব। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।  এদিকে, অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ চালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

 

উদ্ধারকৃত বিভিন্ন ব্রান্ডের বিদেশি মদের মধ্যে রয়েছে- ৭৫০ মিলি রয়েল গ্রিন ৫৯ বোতল, রয়েল স্ট্রং ৮ বোতল, ব্লেন্ডার প্রাইড ১২৭ বোতল, স্ট্রেলিং রিসার্ভ (বি৭) ৬ বোতল, সিগনেচার ৬৪ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৫২ বোতল, ওল্ড মন্ক ৬ বোতল। 


৩৭৫ মিলি ব্লেন্ডার প্রাইড ১৪৭ বোতল, আইকনিক হোয়াইট ৬৭ বোতল, রয়েল গ্রিন ৫৭ বোতল, সিগনেচার ২৩ বোতল, ওল্ড মন্ক ৭৭ বোতল, আইস ভোদকা ১১ বোতল, ম্যাজিক মোমেন্ট ১৬ বোতল। 


১৮০ মিলি রয়েল স্ট্রং ৩৫ বোতল এবং সিগনেচার ৩৩ বোতল এবং কিং ফিসার (স্ট্রং) বিয়ার ৯৫ বোতল।


অভিযান শেষে র‍্যাব-৯ সিপিসি ১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাসার নিচতলার একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। 


তিনি জানান, ঘটনায় বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রবাসীর ছোট ভাই আবু শিতাবকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার হেফাজতেই এসব বিদেশি মদ সংরক্ষণ করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযান চলাকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. মহর আলীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 


মেজর সাদমান বলেন, এটি একটি আবাসিক এলাকায় পরিচালিত গোপন মদের গুদাম। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদের চালানের তথ্য পাওয়া গেলেও গুদামটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এবার সেই গুদাম শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়েছে।
 


র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অধিনায়ক মো. তাজমিনুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর বালুচর এলাকায় মধ্যরাতে একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৮২ বোতলে ৪৫০.১১৫ লিটার বিদেশি মদ এবং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত আবু সাদাত সহ ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০১