জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেছেন, “কথা বলতে গেলে দমন-পীড়ন করা, আক্রমণ করা কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে বাধা দেওয়া—এগুলো বিগত আমলের পুরোনো কৌশল। আপনারা শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ, শেখ হাসিনাকে কীভাবে হটানো হয়েছে, তা এ দেশের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও জানে।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘অগ্নিঝরা জুলাই ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বক্তব্যে প্রশাসন ও বিরোধী মত দমনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের দেওয়া কড়া নির্দেশিকা বন্ধ হওয়া উচিত। কথা পছন্দ না হলে পাল্টা সমাবেশ করে জবাব দেওয়াই হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্র। দমন-পীড়ন করে কিংবা নিরাপত্তার অজুহাতে কথা বলতে বাধা দেওয়ার পুরোনো কৌশল আর চলতে দেওয়া হবে না।’
হবিগঞ্জে হামলার ঘটনা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যে ছেলেটির চোখ চলে গেছে, সে কী আপত্তিজনক বক্তব্য দিয়েছে, সেটা তারা তুলে ধরুক। বিগত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে অনলাইনে ‘আপত্তিজনক’, ‘উসকানিমূলক’, ‘কটূক্তিমূলক’ শব্দ ব্যবহার করে বিরোধী মতকে দমন করা হয়েছে। এটি ছিল রাজনৈতিক সমালোচনা বন্ধ করার একটি পাঁয়তারা। আপনারা কথার জবাব কথায় দেবেন—এটাই রাজনীতি, এটাই গণতন্ত্র।”
ক্যাম্পাসে পুলিশ ও বিজিবির ব্যাপক উপস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শাবিপ্রবিতে ঢুকে প্রশাসনের এত আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে বড় কোনো মারামারি লেগে যাবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে এই সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে। দেশে আবারও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরির চেষ্টা চলছে।”
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান দুই এজেন্ডা ‘বিচার ও সংস্কার’-এর ওপর জোর দিয়ে নাহিদ বলেন, “বিচারের মাধ্যমে অতীত ফ্যাসিস্ট শক্তিকে দমন করতে হবে। আর সংস্কার না হলে আগামীতে যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারাও কাঠামোর সুবিধা নিয়ে নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারে। পুরোনো ফ্যাসিস্ট ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।”
অনুষ্ঠানে শাকসু নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, “বিয়ের কেনাকাটা শেষ হয়ে গেছে—মানে মেয়ে রাজি, ছেলেও রাজি, বিয়ে হবে। হুট করে রাতে খোঁজ এল যে কালকে বিয়ে হবে না। জাস্ট ইলেকশন হবে, সবকিছু হয়ে গেছে, এক ভিলেন এসে উপস্থিত হয়ে বলল ইলেকশন করতে দেব না। আপনারাও কেমন যেন ভিলেনটাকে ছেড়ে দিলেন। আজকে একদম স্ট্রিক্টলি (শক্তভাবে) আমার ওপরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি যাতে কোনো ব্যক্তির নাম পৃথিবীতে উচ্চারণ না করি। এগুলো নিয়ে আমি কথা না বলি। তবে আপনারা বুঝছেন কে ঘটনাটা ঘটিয়েছে। তবে আপনারা এটা ছাড় দেবেন না। ইলেকশনের সবকিছু প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। পুরো বাংলাদেশে কোথায় ইলেকশন হয়, এটা দেখার দরকার নেই। শাবিপ্রবিতে নিয়মিত ইলেকশন হতে হবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক রাশিদ আবরারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রিয়াজ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার, ছাত্রশিবিরের শাবিপ্রবি সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহ-সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাখা সাধারণ সম্পাদক আজাদ শিকদার প্রমুখ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আতহার/এসডি-১১




