ছবি: এআই।

সারা দেশে হামের সংক্রমণ কিছুটা কমে আসলেও সিলেট এখনও ‘হটস্পট’। হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা শতক ছাড়িয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে, এখন শিশুদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্করাও। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৭ হাজার। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা তিনশ’ ছুঁইছুঁই অবস্থায় আছে অনেক দিন থেকে।

 


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে গত মার্চ থেকে হামের সংক্রমণ শুরু হয়। দিন দিন সংক্রমণ বাড়তেই থাকে। শুরুতে আক্রান্তদের ৯৯ ভাগই ছিল শিশু। মাঝে মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক রোগী আসতেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। কিন্তু চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে আশঙ্কাজনকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র জানায়, বিভাগের চার জেলায় এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৭ হাজার ৯৬৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৩ জন উপসর্গ ও ৬৩৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসা নেন। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৪৮৪ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১১০ জন। আর হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৮৬ জন। চিকিৎসা নেওয়া ৭ হাজার ৯৬৭ জনের মধ্যে প্রায় এক হাজার ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক। ইতোমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন নার্সিং কর্মকর্তা মারাও গেছেন।

 

সিলেটে হামের চিকিৎসার জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ডেডিকেটেড করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো.মিজানুর রহমান জানান, বুধবার পর্যন্ত তাঁর হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ হাজার ১২০ জন ভর্তি হয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২ হাজার ৮০৭ জন। চিকিৎসা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৫২০ জন ছিলেন প্রাপ্তবয়স্ক। হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্ক ১৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আইসিইউতে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

ডা. মো. মিজানুর রহমান আরও জানান, গত এক মাস থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক রোগী ভর্তি বেড়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের অবস্থা শুরুতে বেশ জটিলই থাকে। অনেকে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ফুসকা ওঠা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও হার্টফেইলর নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তবে চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। অনেক রোগী জানিয়েছেন, তারা ছোটবেলায় হামের ভ্যাকসিন নিয়েও আক্রান্ত হয়েছেন। আবার অনেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে ভ্যাকসিন গ্রহণ না করা ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিবারের শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানান ডা. মিজানুর রহমান।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম জানান, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা না কমলেও বাড়ছে না, এটাই স্বস্তির খবর। হাম সংক্রমণ আর বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ