মৌলভীবাজারের জুড়ীতে জুরী নদীর ভাঙ্গনে বাড়িঘর ও রাস্তা বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বরইতলী গ্রামের কৃষকগণ তাদের অবশিষ্ট বাড়িঘর রক্ষার্থে ব্লক দিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন।
বরইতলী বাসিন্দা আব্দুল আহাদ, আব্দুস শুকুর, জিল্লুর রহমান, হোছন আহমদ, ইয়াকুব আলী প্রমুখ বলেন, ভারত থেকে শুরু হওয়া জুরী নদী বরইতলী গ্রামের পাশ দিয়ে গেছে। নদীটি এক সময় ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা ছিল। নদীর তীরে বাংলাদেশের মানুষের মালিকানাধীন ক্ষেতের জমি ও বাড়িঘর ছিল। যেখানে আমরা শত বছর থেকে বসবাস ও হালচাষ করছিলাম। বিগত পঞ্চাশ বছর থেকে উক্ত নদীর বাংলাদেশ অংশে ভাঙ্গন শুরু হয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে প্রবাহিত হতে থাকে। ২/৩টি বাড়িঘর বিলীন হয়। অন্যান্য বাসিন্দারা বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিলেও ভিটেমাটি, কৃষিজমি ও গাছপালা নদী গর্ভে চলে যায়। এতে বাংলাদেশের জমি ভারতের দিকে চর দিতে থাকে। এ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গনে আমাদের মালিকানাধীন ৪০/৫০ একর জমি ভারত প্রান্তে চলে যায়। আমরা সে জমিতে যেতে পারি না বা হালচাষ করতে পারি না।
গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন থেকে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকার ফলে গ্রামের লোকজনের চলাচলকারী একমাত্র রাস্তাটিও বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে নদী তীরবর্তী এলাকায় ২৫/৩০টি পরিবার বসবাস করছে। এরমধ্যে ৪/৫টি বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার লোকজন, শিক্ষার্থী ও পাশর্^বর্তী মন্ত্রীগাঁও গ্রামের বেশ কিছু লোক কৃষিকাজের জন্য এই সড়কে চলাচল করেন। হাটবাজার বা বিদ্যালয়ে যেতে তাদের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অতিসম্প্রতি রাস্তাটি রক্ষার জন্য গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে বাঁশ ও মাটি দিয়ে গড় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায়।
নদীর ভাঙ্গন ঠেকিয়ে অবশিষ্ট বাড়িঘর রক্ষা ও রাস্তার সুবিধার্থে নদীর এই বিশাল বাঁকটিতে পাথর ফেলে ব্লক বসাতে হবে। কয়েক বছর আগে সরকার বল্লি (লম্বা সরু গাছ) গেড়ে দিয়েছিল। বল্লি গাড়ার ফলে নদীর তলদেশে ফেটে গিয়ে আরো বড় আকারে ভাঙ্গন দেয়।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো), মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। বরাদ্ধ পাওয়া সাপেক্ষে কাজ করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মঞ্জুরে/এসডি-০২




