ধাপে ধাপে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি।
কমিটির মতে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সীমিত হয়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ দুই দেশের জনগণের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সরকারি জবাবে এ বিষয়ে মতামত জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মাধ্যমে নিয়মিত ভিসানীতি পর্যালোচনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে তারা।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত সরকার কমিটিকে জানিয়েছে, মানবিক নীতির ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ভারতে কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটিতে ভারতের ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন কনস্যুলার কর্মকর্তাকেও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা পাঁচটি ভিসা কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসার জন্য আবেদন করা ভিসা।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ভিসা দেওয়ার সংখ্যা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ভিসা কেন্দ্র চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২২




