সিলেট বিভাগে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

 



এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৬ জনে এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ১১৬ জনের।

 


বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত ‘হাম ও রুবেলা রোগের পরিস্থিতি প্রতিবেদন’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৭০৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিলেট জেলায় ২৩৫ জন, হবিগঞ্জে ৬৭ জন, মৌলভীবাজারে ৬১ জন এবং সর্বোচ্চ ৩৪৩ জন শনাক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলায়। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।

 


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৩ জন সন্দেহজনক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

 


এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এসব রোগী ভর্তি করা হয়েছে।

 


বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৫৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি রয়েছেন।

 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশুই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

 

 

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে সিলেট বিভাগে মোট ১১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১ জন, সিলেট জেলায় ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

 


স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। বিভাগজুড়ে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ