ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সিলেট এর উদ্যোগে বুধবার সকাল ১০ টায় সিলেট নগরীর রাস্তার মধ্যবর্তী আইল্যান্ডের ফাঁকা স্থানে ‘বর্ষায় বৃক্ষরোপণ, সবুজের আচ্ছাদন’ শিরোনামে বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ কর্মসূচীর শুরুর প্রাক্কালে নগরীর চালিবন্দর এলাকায় ধরা (সিলট) এর সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার এর সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এতে বক্তব্য রাখেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও ধরার কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুল খালিক, আলোকচিত্র শিল্পী আব্দুল মোনায়েম, সমাজকর্মী এডভোকেট অরূপ শ্যাম বাপ্পী, সমাজকর্মী রোমেনা বেগম রোজি, পরিবেশ কর্মী তাজুল আমিন সোহাগ, সংবাদকর্মী ও ধরার সদস্য আব্দুর রহমান হীরা, এডভোকেট জাফর ইকবাল তারেক, নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ধরার সদস্য এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া লিমন।

ধরার কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক আবহাওয়া ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। এর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের বড় কোনো তহবিল নেই। তবে আমরা বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারি। বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। প্রকৃতির এই আশীর্বাদকে কাজে লাগিয়ে যদি আমরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ রোপণ করি এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করি, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সিলেট নগরীর প্রধান সড়কগুলো সবুজে আচ্ছাদিত হয়ে উঠবে।

তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশনসহ সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিকদের গাছগুলো দেখভালের আহবান জানান।

ধরা সিলট এর সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম সারা বছর জুড়েই শহরের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল করতে সিলেট সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সর্বোপরি সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সিলেটকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে ধরার পাশে থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।

ধরার সদস্য এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া লিমন বলেন, বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর রোড ডিভাইডারগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে তা শুধু নগরীর সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করবে না; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ হ্রাস এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরে উপস্থিত সকলে সোবহানীঘাট এলাকার রাস্তার মধ্যবর্তী আইল্যান্ডের ফাঁকা স্থানে নিম গাছের চারা লাগিয়ে কর্মসূচীর সূচনা করেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৬