সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ মিলছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৪ জনকে সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৪ জন সন্দেহভাজন রোগী। 

 


 

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় প্রকাশিত ‘হাম ও রুবেলা পরিস্থিতি প্রতিবেদন’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭৪ জনে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৫৬ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন, হবিগঞ্জে ৮৫ জন (এর মধ্যে দুইজন রুবেলা রোগী) এবং মৌলভীবাজারে ৮২ জন শনাক্ত হয়েছেন।

 

 


স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই ৭৪ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩১ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন।

 

 

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৩০৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৯ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 


গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রোয়াগাঁও এলাকার চার মাস বয়সী আবু বক্কর। তিনি শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপরজন হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গোলগাঁও গ্রামের সাত মাস বয়সী তাইফা। তিনি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

 

 

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন হামে ১১৪ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে।

 


জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। এরপর সিলেটে ৪৪ জন, হবিগঞ্জে ১৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই হামের বিস্তার রোধে সময়মতো টিকাদান, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তবে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ, রোগীদের টিকাদান-ইতিহাস কিংবা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনের কারণ অনুসন্ধান এখন স্বাস্থ্য প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ