ছবি: সিলেট ভিউ।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে তাহমিনা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে জেলা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই তাহমিনার স্বামী তাহির মিয়াসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। যদিও তাহমিনার পরিবারের অভিযোগ- তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে- তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার। তাদের সংসারে তিনটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর তাদের সংসার সুখে শান্তিতে চললেও সম্প্রতি টাকা পয়সাকে কেন্দ্র করে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলে আসছিল।
তাহমিনার বাবা ওসমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার জন্য তার মেয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে টাকা দাবি করছিলেন তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। টাকা দিতে না পারায় তাহমিনার ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালানো হতো। তিনি বলেন-আমরা টাকা না দেওয়ায় স্বামী, শাশুড়ি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’
তাহমিনার ভাই আলমগীর মিয়া বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কল করে জানানো হয়, তাহমিনা অসুস্থ। তবে আমরা সেখানে গিয়ে বিছানায় তার মরদেহ দেখতে পাই। তিনি বলেন- তখন বাড়িতে স্বামী, শাশুড়িসহ পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।’
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে। তাহমিনার পরিবারের সদস্যরা দাবী করছেন তাকে হত্যা করা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন সে গলায় ফাস দিয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশী তদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ বেরিয়ে আসবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জাকারিয়া/ এহিয়া-০১




