ছবি: সিলেট ভিউ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী যুবক তারা মিয়ার মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা পর সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ এবং দুই দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির আব্দুল মালেকের ছেলে নিহত তারা মিয়া (১৯)।
জানা যায়, সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে চাতলাপুর সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ ও ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা মিয়ার মরদেহ তাঁর বড় ভাই রাজু মিয়ার কাছে হস্তান্তর করে। পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন- কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ভারতের ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬-ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম এবং বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিতসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৯ আগস্ট) ভোরে তারা মিয়াসহ চারজন আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এসময় বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধ করতে চাইলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সহযোগীরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশি তরুণ নিহতের ঘটনায় বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং সীমান্তে টহল আরও বাড়ানো হয়েছে।’
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় প্রয়োজনীয় ডায়েরি ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৮




